জীবনের শেষ সময়ে এসে অধিকাংশ মা-বাবার ভরসা থাকে সন্তানের ওপর। কিন্তু বাস্তবতা সব সময় সেই আশার প্রতিফলন ঘটায় না। এমনই এক হৃদয়বিদারক দৃষ্টান্ত দেখা গেছে এক বৃদ্ধা মায়ের জীবনে।
সন্তানেরা মৃত্যুর পর যথাযথভাবে দাফন করবেন কি না—এই অনিশ্চয়তা থেকেই তিনি জীবিত থাকতেই নিজের কবর তৈরি করে রেখেছেন।
ঘটনাটি ঠাকুরগাঁওয়ের ভূল্লী উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের বড়বালিয়া পাইকারমনি গ্রামে। এ ঘটনায় চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বৃদ্ধা আয়েশা খাতুন ওই গ্রামের মৃত আয়নাল হকের স্ত্রী।
জানা যায়, স্বামীর মৃত্যুর পর দীর্ঘদিন ধরে সন্তানদের অবহেলা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন এই বৃদ্ধা। ছেলেরা সম্পদ লিখে নেওয়ার পর এখন আর কেউ খোঁজ খবর নেয় না। বড় ও ছোট ছেলের বাড়িতে কিছুদিন থাকার পর বনিবনা না হওয়ায় বের করে দেন এই বৃদ্ধা মাকে।
পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় স্বামীর দেওয়া আড়াই শতাংশ জমির ওপর ঠাঁই নেন বৃদ্ধা আয়েশা খাতুন। ছেলেদের ওপর ভরসা না থাকায় ঘরেই পাশেই তৈরি করে রেখেছেন নিজের কবর। প্রতিদিন সেই কবরের পাশ দিয়ে হেঁটে যান, আর নীরবে মৃত্যুর অপেক্ষা করেন।
বৃদ্ধার এই সিদ্ধান্ত স্থানীয়দের আবেগাপ্লুত করেছে। অনেকেই বলছেন, একজন মায়ের এমন সিদ্ধান্ত সমাজের জন্য লজ্জাজনক। যে মা সারা জীবন সন্তানকে মানুষ করতে নিজের সবকিছু উৎসর্গ করেন, শেষ বয়সে সেই মাকেই নিজের কবরের ব্যবস্থা করে রাখতে হয়।এ দৃশ্য আমাদের পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়েরই প্রতিচ্ছবি।
বৃদ্ধা মায়ের তৈরি করে রাখা এই কবর যেন আমাদের সবাইকে একটি প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করায়। আমরা কি সত্যিই আমাদের মা-বাবার প্রতি দায়িত্ব পালন করছি?
বৃদ্ধা আয়েশা খাতুন বলেন, সন্তানরা কেউ খোঁজ খবর নেয় না। ঘরের মধ্যে পানি ঢুকে তারপরও কষ্ট করে থাকি। ঘরের মধ্যে কারেন্ট নেই অন্ধকারে থাকতে হয়। না খেয়ে দিন পার করতে হয়।
একবারও তারা খোঁজ নেয় না মা কেমন আছে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে বৃদ্ধা আয়েশা খাতুন বলেন, এত কষ্ট করে সন্তানদের বড় করলাম কেউ দেখতেও আসে না।
স্থানীয় হাশেম আলী বলেন, ৫ বছর থেকে বৃদ্ধা আয়েশা খাতুন এখানে থাকেন। অনেক কষ্ট করে চলেন। তার সন্তানরা জমি লিখে নেওয়ার পর আর কেউ দেখেন না। এলাকাবাসীকে বলে গেছে তিনি মারা গেলে যেন তার তৈরি করা কবরে দাফন করা হয়।
তার ছেলেরা সবাই ব্যবসা করে, সবাই ভালো চলে অথচ তার মায়ের খোঁজ খবর নেয় না। আমরা কিছু বলতে গেলে উল্টো আমাদেরকে গালিগালাজ করে।
এ বিষয়ে বৃদ্ধা আয়েশা খাতুনের সন্তানদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি।
তবে পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা বৃদ্ধা আয়েশা খাতুনের অভিযোগ অস্বীকার করেন।
স্থানীয়দের দাবি, অচিরেই যেন বৃদ্ধা আয়েশা খাতুনকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সে জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
প্রকাশক: মোঃ শরিফুল ইসলাম। যোগাযোগ: মেডিকেল পূর্ব গেট, বুড়িরহাট রোড, রংপুর, বাংলাদেশ।
Copyright © 2026 RCTV ONLINE. All rights reserved.