নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার হালতি বিলের পাটুল এলাকায় অবৈধ কারেন্ট জাল দিয়ে পোনা মাছ নিধন রোধে পরিচালিত মোবাইল কোর্ট অভিযানে ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় ৯০০ ফুট কারেন্ট (সিন্থেটিক) জাল পুড়িয়ে ধ্বংস এবং অবৈধ মাছ ধরার কাজে ব্যবহৃত চারটি নৌকা জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা পোনা মাছ স্থানীয় একটি এতিমখানায় বিতরণ করা হয়।
সোমবার (১৪ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত হালতি বিলের পাটুল এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল এমরান খাঁন-এর সার্বিক নেতৃত্বে পরিচালিত এ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শামীম হোসেন। অভিযানে উপজেলা অতিরিক্ত সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আবু সাঈদ, নলডাঙ্গা থানার পুলিশ সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা অংশ নেন।অভিযান চলাকালে মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন, ১৯৫০-এর ধারা ৫ অনুযায়ী দুটি মামলায় মোট ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়। পাশাপাশি অভিযুক্তদের কাছ থেকে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধে জড়িত না হওয়ার মুচলেকা নেওয়া হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা বাঁশিলা গ্রামের আহসান আলী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে হালতি বিলে অবাধে কারেন্ট জাল ব্যবহার করে পোনা মাছ নিধন করা হচ্ছিল। প্রশাসনের এই অভিযানকে সাধারণ মানুষ স্বাগত জানিয়েছে। এ ধরনের অভিযান নিয়মিত হলে বিলের দেশীয় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষা হবে।
পাটুল এলাকার বাসিন্দা আতিকুর রহমান আতিক বলেন, কারেন্ট জালের কারণে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ পোনা মাছ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। এতে একদিকে যেমন দেশীয় মাছের উৎপাদন কমছে, অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন প্রকৃত জেলেরা। প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ অব্যাহত রাখার দাবি জানান তিনি।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শামীম হোসেন বলেন, "অভিযানে পোনা মাছ ধরার কাজে ব্যবহৃত প্রায় ৯০০ ফুট কারেন্ট/সিন্থেটিক জাল, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩ লাখ টাকা, জব্দ করে ঘটনাস্থলেই পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। এছাড়া অবৈধ মাছ ধরার কাজে ব্যবহৃত চারটি নৌকা জব্দ করা হয়েছে।"
তিনি আরও বলেন, "জব্দ করা পোনা মাছ স্থানীয় একটি এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে, যাতে জনকল্যাণমূলক কাজে এসব মাছ ব্যবহার করা যায়।"
উপজেলা অতিরিক্ত সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আবু সাঈদ বলেন, "দেশীয় মাছের প্রজনন, প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কারেন্ট জালের ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। যারা এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকবেন, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনস্বার্থে এ ধরনের মোবাইল কোর্ট ও অভিযান নিয়মিত পরিচালিত হবে।"
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল এমরান খাঁন বলেন, "হালতি বিল দেশের গুরুত্বপূর্ণ মৎস্যসম্পদের একটি উৎস। অবৈধ কারেন্ট জাল দিয়ে পোনা মাছ নিধন করলে ভবিষ্যতে মাছের উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। তাই প্রাকৃতিক মৎস্যসম্পদ রক্ষা এবং আইন বাস্তবায়নে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে আইনের ঊর্ধ্বে ছাড় দেওয়া হবে না। জনগণের সহযোগিতায় হালতি বিলকে অবৈধ কারেন্ট জালমুক্ত করা হবে।"
তিনি আরও বলেন, অবৈধ মাছ শিকার, পোনা নিধন এবং কারেন্ট জালের ব্যবহার বন্ধে সবাইকে সচেতন হতে হবে। স্থানীয় জনগণ ও জেলেদের সহযোগিতায় হালতি বিলের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং দেশীয় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতে প্রশাসন ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাবে।
প্রকাশক: মোঃ শরিফুল ইসলাম। যোগাযোগ: মেডিকেল পূর্ব গেট, বুড়িরহাট রোড, রংপুর, বাংলাদেশ।
Copyright © 2026 RCTV ONLINE. All rights reserved.