
কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারীতে পানি নিষ্কাশনের কালভার্টের মুখে মাটি ভরাট করে বাড়ি নির্মাণ করায় বৃষ্টির পানি বের হতে না পেরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।পানির নিচে ডুবে আছে প্রায় এক হাজার একর আবাদি জমি। তলিয়ে গেছে স্কুল,চলাচলের সড়ক,বসতবাড়ি ও বাগান।বন্ধ হয়ে গেছে একটি গ্রামের শিশুদের স্কুলে যাওয়া আসা।চরম দূর্ভোগে পড়েছে চারটি গ্রামের মানুষ। প্রশাসনকে জানিয়েও মিলছে না সমাধান।
জিানা যায় কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের শতিপুরি মৌজায় স্থানীয় সরকার বিভাগের ক্ষুদ্র পানি প্রকৌশল প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৩০ বছর আগে একটি বন্যা নিয়ন্ত্রন বাধ নির্মাণ করা হয়। বাঁধর ভিতরে রয়েছ প্রায় ১হাজার একর আবাদি জমি,চারটি গ্রাম, একটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,একটি সড়ক। সড়কটি দিয়ে দুটি গ্রামের শিশু শিক্ষার্থীরা স্কুলে যাওয়া আসা করে। পানি নিষ্কাশনের জন্য বাধটির পশ্চিম অংশে একটি কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছিল।দীর্ঘদিন কলাভার্ট দিয়ে পানি গড়ালেও এখন সেটি বন্ধ। ছয়মাস আগে কালভার্টের মুখে মাটি ভরাট করে দুটি বাড়ি নির্মাণ করেছে জমির মালিক দুই ভাই সোনাউল্লাহ ও আমান উল্লাহ। তখন থেকে বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে ওই এলাকায়।এতে শতিপুরী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠসহ বিদ্যালয়ে আসা যাওয়ার সংযোগ সড়ক পানিতে ডুবে গেছে।বিদ্যালয়ে আসা যাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে ছড়ারপাড় গ্রামের শিশু শিক্ষার্থীদের।
এছাড়া পানিতে আবদ্ধ হয়ে দূর্ভোগে পড়েছে ছড়ার পাড়,উত্তর সতিপুরি,দক্ষিন সতিপুরি ও ব্যাপারীটারী গ্রামের মানুষ। অনেকের বাড়িতে উঠেছে পানি। আবার অনেকের পানি মাড়িয়ে বাড়িতে যেতে হচ্ছে। বসত বাড়ির বাগানে পানি উঠায় নষ্ট হচ্ছে বিভিন্ন প্রজিাতির বৃক্ষ । জলাবদ্ধাতায় অনেক বাড়ির ভেঙে পড়েছে স্যানিটেশন ব্যবস্থা। চরম দূর্ভোগে পড়েছে কয়েক হাজার মানুষ। এছাড়া জলাবদ্ধতায় অনিশ্চৎ হয়ে পড়েছে প্রায় হাজার একর জমির আমন আবাদ।
শতিপুরী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শরিফ উদ্দিন জানান,প্রায় ৫মাস থেকে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।এতে বিদ্যালয়ে আসা যাওয়ার সড়ক ডুবে গেছে। একটি গ্রামের শিক্ষার্থীরা আসতে পারছে না। অপরদিকে বিদ্যালয়ের মাঠে পানি উঠায় শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। বিষয়টি দ্রুত নিরসন হওয়া দরকার।
স্থানীয় বাসিন্দা আবু সাইদ জানান, কালভার্টটির মুখে বাড়ি নির্মাণ করায় চারটি গ্রামের মানুষ বিপদে পড়েছে। এছাড়া প্রায় ৩ হাজার বিঘা জমি তলিয়ে আছে। এসব জমিতে আর আবাদ হবে না। তিনি আরো জানান,পানিতে রাস্তা তলিয়ে গেছে,চলা চল কষ্ট হয়ে গেছে।
কৃষক ওসমান গনি জানান,তার বাড়ির বাগানে পানি উঠে শুপারীসহ বিভিন্ন প্রকার গাছ নষ্ট হচ্ছে। আমন ধানের বীজতলাও নষ্ট হয়ে গেছে। জমিতে পানি থাকায় আমন চাষ নিয়ে দু:শ্চিন্তায় আছি।
মমেনা বেগম বলেন,বাড়ির উঠান পর্যন্ত পানি উঠেছে। বাড়ি থেকে বের হতে পারিনা ভেলায় চরতে হয়।টয়লেট পানিতে ডুবে গেছে। প্রতিদিন পানি মাড়িয়ে পরিবারের সবাই অসুস্থ্য হয়ে পড়ছে।
পানি নিস্কাশনের কালভার্টের মুখে বাড়ি নির্মাণ করা আমান উল্লাহ জানান,আমাদের আর কোন জমি না থাকায় বাধ্য হয়ে এখানে দুই ভাই বাড়ি করেছি।
জলাবদ্ধতার বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে। ইতিমধ্যে কয়েক দফা পরিদর্শণ করেছে উপজেলা প্রশাসন। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও এখনো নিতে পারেনি ফলপ্রসু পদক্ষেপ।
ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী করমকর্তা অমৃত দেব নাথ জানান,জলাবদ্ধতার বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। আমি নিজে ওই স্থান পরিদর্শণ করেছে। কালভার্টের মুখ খুলে দিতে বাড়ির মালিকের সাথে কথা বলেছি।তবে সুরাহা হয়নি।পরে স্থানীয় চেয়াম্যানকে বিষয়টি সুরাহা করতে বলে এসেছি।
প্রকাশক: মোঃ শরিফুল ইসলাম। যোগাযোগ: মেডিকেল পূর্ব গেট, বুড়িরহাট রোড, রংপুর, বাংলাদেশ।
Copyright © 2026 RCTV ONLINE. All rights reserved.