
শনিবার (১১ জুলাই) দিবাগত রাত ২টার দিকে উপজেলার কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নের ভারাদহ মাঝিপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত শাহ জামাল মিয়া ওই এলাকার জংলু মিয়ার ছেলে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, রাতে বাড়ির বারান্দায় ঘুমিয়ে ছিলেন শাহ জামাল। এ সময় গোলাম হোসেন ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার গলায় আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই শাহ জামালের মৃত্যু হয়।
স্বজনদের দাবি, গোলাম হোসেন দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত এবং মানসিক ভারসাম্যহীন। কিছুদিন আগে তিনি তার স্ত্রীকেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আহত করেন। এরপর থেকে স্ত্রী ঢাকায় চলে যান। স্বজনদের অভিযোগ, গোলাম হোসেনের আচরণ নিয়ে শাহ জামাল তাকে প্রায়ই শাসন করতেন। এর জেরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে।
নিহত শাহ জালালের স্ত্রী পারুল বেগম জানান, রবিবার গভীর রাতে কৌশলে দরজা খুলে ঘরে প্রবেশ করে আপন ভাতিজা গোলাম হোসেন। ধারালো অস্ত্র দিয়ে আপন চাচা শাহ জালালের গলা কেটে ফেলে। গোঙানীর শব্দ শুনে শাহ জালালের স্ত্রী পারুল বেগম পাশের ঘর থেকে উঠে আসলে গোলাম হোসেন পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলেই মারা যান শাহ জালাল।
স্থানীয়রা জানান, অভিযুক্ত গোলাম হোসেন দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। পারিবারিক কলহের জের ধরে গোলাম হোসেন তার আপন চাচাকে হত্যা করে বলে দাবী নিহতের পরিবারের। এর আগে প্রায়ই গোলাম তার স্ত্রীকে মারধর করতো, চাচা শাহ জালালসহ প্রতিবেশীরা প্রতিবাদ করলে তখন থেকেই গোলাম ক্ষুব্ধ ছিলেন। পরে গোলামের নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে তার স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে ঢাকায় চলে যায়। পরে গোলামও ঢাকায় যায়। শনিবার হঠাৎ ঢাকা থেকে এসে পরদিনই চাচাকে হত্যা করে গোলাম।
ফুলছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দুরুল হুদা। তিনি জানান,খবর পেয়ে রবিবার সকালে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ফুলছড়ি থানা পুলিশ ও সিআইডির কর্মকর্তারা। ঘটনাস্থল থেকে একটি ধারালো ছুরি জব্দ করেছে পুলিশ।
নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
অভিযুক্ত ভাতিজা গোলাম হোসেনকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
প্রকাশক: মোঃ শরিফুল ইসলাম। যোগাযোগ: মেডিকেল পূর্ব গেট, বুড়িরহাট রোড, রংপুর, বাংলাদেশ।
Copyright © 2026 RCTV ONLINE. All rights reserved.