
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক তিন নারীকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা বিজিবি ব্যর্থ করে দিয়েছে। তবে একই সীমান্ত দিয়ে মধ্যরাতে আরও ছয়জনকে পুশইন করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তাদের মধ্যে তিনজনকে স্থানীয়রা আটক করলেও বাকি তিনজন বিভিন্ন পথ দিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে চলে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিজিবি জানায়, শনিবার (১১ জুলাই) ভোর আনুমানিক ৪টা ৪৫ মিনিটে তিস্তা ব্যাটালিয়ন (৬১ বিজিবি)-এর ধবলসূতি বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত পিলার ৮৩৩/৯-এস এলাকায় ভারতের ৯৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের খরখড়িয়া ক্যাম্পের সদস্যরা কাঁটাতারের গেট দিয়ে তিনজন নারীকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে। এ সময় বিজিবির টহলদল তাৎক্ষণিক প্রতিরোধ গড়ে তুলে তাদের অনুপ্রবেশ ঠেকিয়ে দেয়।
বর্তমানে ওই তিন নারী সীমান্ত পিলার থেকে প্রায় ১৫০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থান করছেন বলে বিজিবি জানিয়েছে।
তিস্তা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সৈয়দ ফজলে মুনিম বিএসএফ ব্যাটালিয়ন কমান্ডারের সঙ্গে কথা বলে পুশইনের চেষ্টা করা ব্যক্তিদের দ্রুত ফিরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল ও নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
এদিকে স্থানীয় সূত্র জানায়, একই সীমান্তের বামনদল এলাকা দিয়ে মধ্যরাতে আরও ছয়জনকে বাংলাদেশে পুশইন করা হয়। তারা বিজিবি ও স্থানীয়দের চোখ ফাঁকি দিয়ে বুড়িমারী রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছান। সেখানে স্থানীয়দের সন্দেহ হলে জিজ্ঞাসাবাদে তারা দাবি করেন, মধ্যরাতে বিএসএফ তাদের সীমান্ত পার করে বাংলাদেশে পাঠিয়েছে। নিজেদের বাংলাদেশি পরিচয় দিয়ে তারা কান্নাকাটি ও আকুতি জানান। পরে বুড়িমারী রেলওয়ে স্টেশন থেকে ছেড়ে আসা একটি ট্রেনে উঠে তারা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে চলে যান।
বুড়িমারী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোহাম্মদ সাদিকুল ইসলাম বলেন, "মধ্যরাতে পুশইনের খবর পেয়ে স্থানীয়রা তিনজনকে আটক করেন। পরে তাদের বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং বিজিবি তাদের সীমান্তের শূন্যরেখায় ফিরিয়ে দেয়। আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তাদের সঙ্গে থাকা আরও তিনজন বিভিন্ন পথ দিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেছেন।"
তবে স্থানীয়দের দাবি করা ছয়জনের পুশইনের বিষয়ে বিজিবির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে সীমান্ত এলাকায় উদ্বেগ ও সতর্কতা বিরাজ করছে।
প্রকাশক: মোঃ শরিফুল ইসলাম। যোগাযোগ: মেডিকেল পূর্ব গেট, বুড়িরহাট রোড, রংপুর, বাংলাদেশ।
Copyright © 2026 RCTV ONLINE. All rights reserved.