১৯৫০ সালের মারাকানা ট্র্যাজেডির ক্ষত ভুলে ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখছিল ব্রাজিল। কিন্তু সেই স্বপ্নই ভেঙে চুরমার হয়ে যায় জার্মানির দুর্দান্ত ফুটবলের সামনে। ম্যাচ শেষে ডেভিড লুইজের অশ্রুসিক্ত মুখ হয়ে ওঠে সেই রাতের প্রতীক।
ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বেদনাদায়ক রাতগুলোর একটি আসে ২০১৪ সালের ৮ জুলাই। ঘরের মাঠে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে শিরোপার স্বপ্ন নিয়ে নামা পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল সেদিন জার্মানির কাছে ৭-১ গোলের অবিশ্বাস্য ব্যবধানে হেরে যায়। দেশটির বেলো হরিজন্তের মিনেইরো স্টেডিয়ামে হওয়া সেই ম্যাচ আজও ব্রাজিল সমর্থকদের কাছে এক দুঃস্বপ্ন।
নেইমার ও থিয়াগো সিলভাকে ছাড়া মাঠে নামা ব্রাজিল শুরু থেকেই ছন্দহীন ছিল। ১১ মিনিটে থমাস মুলারের গোলে এগিয়ে যায় জার্মানি। এরপর মাত্র ছয় মিনিটের ব্যবধানে ম্যাচের চিত্র পুরো বদলে যায়। ২৩ মিনিটে মিরোস্লাভ ক্লোসা, ২৪ ও ২৬ মিনিটে টনি ক্রুসের জোড়া গোল এবং ২৯ মিনিটে সামি খেদিরার গোল ব্রাজিলকে কার্যত ম্যাচ থেকে ছিটকে দেয়। প্রথমার্ধেই ৫-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে স্বাগতিকরা।
বিরতির পরও জার্মানির আক্রমণ থামেনি। বদলি হিসেবে নামা আন্দ্রে শুর্লে ৬৯ ও ৭৯ মিনিটে আরো দুটি গোল করে ব্যবধান ৭-০ করেন। ম্যাচের শেষ দিকে অস্কার ব্রাজিলের হয়ে একটি সান্ত্বনার গোল শোধ করলেও তাতে পরাজয়ের তিক্ততা কমেনি।
১৯৫০ সালের মারাকানা ট্র্যাজেডির ক্ষত ভুলে ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখছিল ব্রাজিল। কিন্তু সেই স্বপ্নই ভেঙে চুরমার হয়ে যায় জার্মানির দুর্দান্ত ফুটবলের সামনে। ম্যাচ শেষে ডেভিড লুইজের অশ্রুসিক্ত মুখ হয়ে ওঠে সেই রাতের প্রতীক।
১১ বছর পেরিয়ে গেলেও ৮ জুলাইয়ের ৭-১ ব্যবধানের হার ব্রাজিল ফুটবলের সবচেয়ে লজ্জাজনক অধ্যায়গুলোর একটি হিসেবেই স্মরণ করা হয়। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এমন বিধ্বংসী পরাজয় আজও ফুটবলপ্রেমীদের বিস্মিত করে এবং ব্রাজিল সমর্থকদের মনে বেদনার স্মৃতি হয়ে বেঁচে আছে।
প্রকাশক: মোঃ শরিফুল ইসলাম। যোগাযোগ: মেডিকেল পূর্ব গেট, বুড়িরহাট রোড, রংপুর, বাংলাদেশ।
Copyright © 2026 RCTV ONLINE. All rights reserved.