
নীলফামারীর ডোমার উপজেলার চিলাহাটিতে গৃহবধূ পিথী বেগম (৩০) হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ও নিহতের শ্বশুর খায়রুল ইসলাম (৬০)-কে গ্রেফতার করেছে ডোমার থানা পুলিশ।
শুক্রবার (২৬ জুন) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে ভোগডাবুড়ী ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
জানা যায়, খায়রুল ইসলাম ডোমার উপজেলার ভোগডাবুড়ী ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া সাহার মোড় এলাকার মৃত আব্দুল আজিজের ছেলে।
মামলার তথ্যসূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে সিরাজগঞ্জ জেলার সংলা থানার হরমুজ আলী ফকিরের মেয়ে পিথী বেগমের সঙ্গে ডোমার উপজেলার বাসিন্দা ফারুক হোসেনের বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে বর্তমানে ১০ মাস বয়সী একটি পুত্রসন্তান রয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, বিয়ের পর থেকেই পিথী বেগমকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন বিভিন্ন সময় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। গত ২২ মে ২০২৫ রাত আনুমানিক ১০টার দিকে পারিবারিক বিরোধের জেরে তাকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তার স্বামী ফারুক হোসেন ধারালো ছুরি দিয়ে পেটে আঘাত করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় পিথী বেগমকে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুই দিন পর, ২৫ মে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় নিহত পিথী বেগমের বড় বোন রমিছা বেগম বাদী হয়ে ডোমার থানায় স্বামী ফারুক হোসেন, শ্বশুর খায়রুল ইসলাম ও শাশুড়িসহ সংশ্লিষ্টদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলা দায়েরের পর থেকে খায়রুল ইসলাম দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন।
ডোমার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হাবিবুল্লাহ গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গ্রেফতারকৃত আসামি খায়রুল ইসলামকে আজ সকালে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানায়, হত্যা মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
প্রকাশক: মোঃ শরিফুল ইসলাম। যোগাযোগ: মেডিকেল পূর্ব গেট, বুড়িরহাট রোড, রংপুর, বাংলাদেশ।
Copyright © 2026 RCTV ONLINE. All rights reserved.