উজানের পাহাড়ি ঢল ও কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিপাতের প্রভাবে কুড়িগ্রামের ওপর দিয়ে প্রবাহিত ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা ও দুধকুমার নদের পানি গত চারদিন ধরে বিপৎসীমার নিচ দিয়ে ওঠানামা করছে। তবে গত রাত থেকে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় নদ-নদীর পানি হ্রাস পেতে শুরু করেছে। একই সঙ্গে জেলার বিভিন্ন এলাকায় তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে।পানি কমায় বন্যার শঙ্কা কিছুটা কমলেও নতুন করে নদীভাঙন শুরু হওয়ায় নদীতীরবর্তী মানুষের উদ্বেগ বেড়েছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দা।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার প্রধান নদীগুলোর পানি ৫ থেকে ১৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত কমেছে। পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদের অন্তত ৩০টি পয়েন্টে ভাঙন শুরু হয়েছে। এতে বসতভিটা, ফসলি জমি, গাছপালা ও বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
অন্যদিকে, নদী তীরবর্তী এলাকার অনেক ফসলের মাঠ এখনো পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পাঁচগাছী ইউনিয়নের শুলকুর বাজার এলাকার কৃষক জমশেদ আলী জানান, তার এক বিঘা জমির পটলের ক্ষেত এখনো ধরলা নদীর পানিতে তলিয়ে আছে। দ্রুত পানি না নামলে পুরো ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন তিনি। একই পরিস্থিতিতে রয়েছেন ওই এলাকার আরও অনেক কৃষক।
ফসলের জমি পানিতে তলিয়ে থাকায় কৃষকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে। তবে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, পানি দ্রুত নেমে গেলে নিমজ্জিত ফসলের বড় ধরনের ক্ষতি হবে না। পানি সরে যাওয়ার পর জমিতে পরিচর্যা বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রাকিবুল ইসলাম বলেন, গতকাল থেকে ভারী বৃষ্টিপাত না হওয়ায় নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। ফলে বন্যার আশঙ্কাও অনেকটা কমে গেছে। স্থানীয়ভাবে নতুন করে ভারী বৃষ্টি না হলে বড় ধরনের বন্যার সম্ভাবনা নেই।” তবে তিনি স্বীকার করেন, জরুরি বরাদ্দের অভাবে সব ভাঙনকবলিত এলাকায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
জেলা প্রশাসক অর্ণপূর্ণা দেবনাথ বলেন,জেলায় বড় ধরনের বন্যা না হলেও নদীভাঙনকবলিত এলাকাগুলো পরিদর্শন করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় জেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
প্রকাশক: মোঃ শরিফুল ইসলাম। যোগাযোগ: মেডিকেল পূর্ব গেট, বুড়িরহাট রোড, রংপুর, বাংলাদেশ।
Copyright © 2026 RCTV ONLINE. All rights reserved.