রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার কমিয়ে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের দিকে ঝুঁকছে কুড়িগ্রামের কৃষকরা। এতে করে জৈব সার ও জৈব বালাইনাশক ব্যবহার করায় নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত হবার পাশাপাশি উৎপাদন খরচ কমায় আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন প্রান্তিক চাষীরা।
সরেজমিনে দেখাযায়,জেলার রাজারহাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের মহিধর,খন্ডক্ষেত্র গ্রামের কৃষক-কৃষাণী লাভলী বেগম,মোসলেম,আবুল হোসেন,মিনতী রাণীসহ অনেকেই নিরাপদ সবজি চাষ করছেন। এই গ্রামের এক/দু ফসলী জমিতে বছরে ৩/৪ ফসল উৎপাদন করতে পারছেন। প্রতিবছর শিম,করলা,বেগুন,ফুলকপি,বাধকপি,শসা ইত্যাদি ফসল উৎপাদন হচ্ছে।বেসরকারি সংস্থা আরডিআরএস ও পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের অর্থনৈতিক ও কারিগরি সহায়তায় উপজেলার ২০জন কৃষক প্রায় পাঁচ একর জমিতে নিরাপদ ফসল উৎপাদন করছেন। এসব কৃষক রাসায়সিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার কমিয়ে এখন টাইকো কম্পোস্ট জৈব সার,মালচিং পেপার থেকে শুরু করে ক্ষতিধকর রোগ বালাই পোকা-মাকড় দমনে হলুদ, সাদা,নীল ফাঁদ,ফেরোমন ফাঁদসহ বিভিন্ন জৈব বালাইনাশক ব্যবহার করা হচ্ছেন। মডেল কৃষকদের প্রদর্শনী ভিত্তিক কার্যক্রম শুরু হওয়ায় অনেকেই এখন নিজ উদ্যোগে আরডিআরএসের স্পেশাল প্রোগ্রাম ডেভেলপমেন্ট (এগ্রিকালচার) এর পরামর্শে এসব জৈব ও নিরাপদ কৃষি উপকরণ ব্যবহার করছেন। ফলে এলাকায় নিরাপদ ফসল উৎপাদনের পরিবর্তন ঘটেছে।
কৃষাণী লাভলী বেগম বলেন,আরডিআরএস ও পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের সহায়তায় ২০শতক জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে করলা চাষ করেছেন। জমিতে হলুদ ফাঁদ,বিঁষটোপ ব্যবহার করায় সার,কীটনাশক ব্যবহার বন্ধ করেছেন। ফলে উৎপাদন খরচ কমার পাশাপাশি ফলনও ভালো হয়েছে। বাজার মূল্য বাড়লে লাভের পরিমাণও বাড়ার আশা এই কৃষাণীর।
কৃষক আবুল হোসেন বলেন,আগে জমিতে রাসায়নিক সার,কীটনাশক ব্যবহার করতাম। কিন্তুআরডিআরএস ও পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের সহায়তায় জৈব সারের ব্যবহার বাড়িয়েছি। জমিতে বিভিন্ন আঠালো রঙ্গিন ফাঁদ ব্যবহার শুরু করেছি। এছাড়াও ফেরোমন ফাঁদ বা জাদুর ফাঁদ ব্যবহার করে খুবই ভালো কাজ করে। ক্ষেত্র বিশেষে কীটনাশক লাগলে জৈব বালাইনাশক ব্যবহার করছি। আমাদের কীটনাশক ও সার পূর্বের চেয়ে অনেক কম লাগছে ফলে খরচ কমেছে,ফসলেও রোগ বালাই কমে যাওয়ায় ফলন বেড়েছে।
কৃষক মোসলেম বলেন,কৃষি নির্ভরশীল আমাদের জেলায় কৃষি কাজ ছাড়া তেমন কাজ নেই। আগে এই অঞ্চলের জমিতে এক বা দু ফসল হতো। সেই কাজ শেষে হলে বেকার বসে থাকতে হতো। এখন অধিকাংশ জমিতে ৩/৪ ফসল আবাদ হওয়ায় মানুষের হাতে কাজ জুটেছে। গড়ে প্রতিদিন মুজুরি ৪শ হতে ৫শ টাকা। রাসায়নিক সার বা কীটনাশক দেয়ার সময় শ^াসকষ্ট,চোখ জ¦ালা পোড়া করতো। এখন জৈব সার ও জৈব বালাইনাশক ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় এসব থেকে মুক্তি পেয়েছে শ্রমিকরা।
আরডিআরএস বাংলাদেশের কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সজিব আহমেদ বলেন,আমরা আরডিআরএস বাংলাদেশ ও পিকেএসএফের সহায়তায় সদস্য পর্যায়ে নিরাপদ ফসল উৎপাদনের জন্য ক্লাস্টার ভিত্তিক মডেল কৃষকের জমিতে প্রদর্শনী করেছি। ফসল চাষের পরিকল্পনা পর্যায় থেকে, বাস্তবায়ন এবং প্রতিরুপায়ণ সকল ধাপেই কৃষকদের সাথে কাজ করছি। ট্রাইকো কম্পোষ্ট সার,রঙ্গিন ফাঁদ,ফেরোমন ফাদ, জৈব বালাইনাশক ব্যবহারে কৃষকরা উপকৃত হচ্ছে। এতে মাটি,পরিবেশের সুরক্ষা ও ভোক্তা পর্যায়ে নিরাপদ খাদ্য পৌছে দিতে আমরা নিবিড়ভাবে কাজ করছি।
রাজারহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুন্নাহার সাথী বলেন,নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে উপজেলা কৃষি বিভাগ কৃষকদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ প্রদান করছে। জৈব সার ও জৈব বালাইনাশক ব্যবহার করায় নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত হবার পাশাপাশি কৃষকদের উৎপাদন খরচ কমায় তারা আর্থিক ভাবে লাভবান হচ্ছে।
প্রকাশক: মোঃ শরিফুল ইসলাম। যোগাযোগ: মেডিকেল পূর্ব গেট, বুড়িরহাট রোড, রংপুর, বাংলাদেশ।
Copyright © 2026 RCTV ONLINE. All rights reserved.