
নাটোরের সিংড়া উপজেলায় চলনবিলের মাছের প্রজনন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পরিচালিত অভিযানে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি ও কারেন্ট জাল জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। জব্দকৃত জালের আনুমানিক মূল্য প্রায় ২০ লাখ টাকারও বেশি। পরে এসব জাল প্রকাশ্যে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। এ ঘটনায় দুই জাল ব্যবসায়ীকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জেল ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে সিংড়া পৌর শহরের সরকারপাড়া মহল্লায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ ও পুলিশের সমন্বয়ে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, নলডাঙ্গা উপজেলার একডালা গ্রামের জাল সরবরাহকারী শহিদুল সরদার (৪৫)-কে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও সাত দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারপাড়া মহল্লার জাল ব্যবসায়ী একাব্বর হোসেনকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ১৫ দিনের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সিংড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল রিফাত।
অভিযানে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শাহাদত হোসেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খন্দকার ফরিদ, সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম এবং চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শাহাদত হোসেন জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সরকারপাড়া মহল্লার সদাগরপাড়ায় আলাউদ্দিন ও একাব্বর হোসেনের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় সাতটি কক্ষের চালের ড্রাম, খাটের নিচে ও উপরে এবং বিভিন্ন গোপন স্থানে লুকিয়ে রাখা বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি ও কারেন্ট জাল উদ্ধার করা হয়। এছাড়া জাল তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জামও জব্দ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, অভিযানের সময় ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন পালিয়ে গেলেও একাব্বর হোসেন ও জাল সরবরাহকারী শহিদুল সরদারকে আটক করা হয়। পরে মৎস্য সংরক্ষণ আইনের আওতায় তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করে দণ্ড প্রদান করা হয়। পলাতক আলাউদ্দিনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল রিফাত বলেন, “চলনবিল বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মৎস্য ভাণ্ডার। নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি ও কারেন্ট জাল ব্যবহারের কারণে মাছের পোনা ও বিভিন্ন প্রজাতির জলজ প্রাণী ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই এসব অবৈধ জালের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের সাড়াশি অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
তিনি আরও বলেন, “প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করে জনসচেতনতা সৃষ্টি করা হয়েছে। এরপরও যারা অবৈধ জাল উৎপাদন, মজুদ, ক্রয়-বিক্রয় কিংবা ব্যবহারের সঙ্গে জড়িত থাকবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
স্থানীয় সচেতন মহল প্রশাসনের এ অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে চলনবিলের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও মৎস্যসম্পদ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান নিয়মিত চালিয়ে যাওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
প্রকাশক: মোঃ শরিফুল ইসলাম। যোগাযোগ: মেডিকেল পূর্ব গেট, বুড়িরহাট রোড, রংপুর, বাংলাদেশ।
Copyright © 2026 RCTV ONLINE. All rights reserved.