
উজানে ভারতের মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানির প্রবাহ বৃদ্ধি পেলেও বর্তমানে তা বিপদসীমার ২৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
রোববার (২১ জুন) সকাল ৯টার তথ্য অনুযায়ী, ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানির সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ৫১ দশমিক ৯২ মিটার, যেখানে এ পয়েন্টে বিপদসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটার। অর্থাৎ নদীর পানি বর্তমানে বিপদসীমার ২৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে গত কয়েকদিন ধরে তিস্তার পানিপ্রবাহ ওঠানামা করছে। নদীর পানি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে।
এক নজরে মৌসুমী বৃষ্টিপাতের পরিস্থিতি অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলীয় উজানে ভারতের মেঘালয় এবং পশ্চিমবঙ্গে প্রবল ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর মধ্যে মেঘালয়ের মাউসিনরামে ৫২৬ মিলিমিটার, মাওকিয়াতে ৩৮৫ মিলিমিটার, চেরাপুঞ্জিতে ৩৩২ মিলিমিটার এবং পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহারে ২২২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া জলপাইগুড়িতে ১৪৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
অন্যদিকে দেশের অভ্যন্তরে গত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজারের টেকনাফে ১২১ মিলিমিটার, সুনামগঞ্জের লরেরগড়ে ৮৭ মিলিমিটার, সিলেটের জাফলংয়ে ৭৫ মিলিমিটার এবং পঞ্চগড়ে ৫৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ী, টেপাখড়িবাড়ী, খালিসা চাপানী, ঝুনাগাছ চাপানী ও গয়াবাড়ী ইউনিয়ন এবং জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা, ডাউয়াবাড়ী ও শৌলমারী ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, “তিস্তার পানি বর্তমানে বিপদসীমার নিচে রয়েছে। তবে উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তিস্তা ব্যারাজের সবগুলো জলকপাট খুলে পানি নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। আপাতত বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা নেই, তবে নদীতীরবর্তী মানুষকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।”
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, উজানের বৃষ্টিপাতের পরিস্থিতি বিবেচনায় তিস্তা নদীর পানিপ্রবাহের ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
প্রকাশক: মোঃ শরিফুল ইসলাম। যোগাযোগ: মেডিকেল পূর্ব গেট, বুড়িরহাট রোড, রংপুর, বাংলাদেশ।
Copyright © 2026 RCTV ONLINE. All rights reserved.