
দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে গাছতলা ও ঝুপড়ি ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করা নীলফামারীর অসহায় বৃদ্ধ লুৎফর রহমান চৌধুরীর জীবনে আশার আলো ফুটেছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে তার করুণ জীবনসংগ্রামের খবর প্রকাশের পর প্রশাসন, সমাজসেবী ব্যক্তি ও মানবিক সংগঠনগুলো তার পাশে দাঁড়িয়েছে।
নীলফামারী জেলা প্রশাসকের সরাসরি হস্তক্ষেপে এবার তার জন্য নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। লুৎফর রহমান চৌধুরী (৬০) নীলফামারী সদর উপজেলার কুন্দুপুকুর ইউনিয়নের বাড়োঘড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক অবহেলা ও আর্থিক সংকটের কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরে আশ্রয়হীন অবস্থায় জীবনযাপন করছিলেন।ছেলে-মেয়েরা তার দেখভাল না করায় একপর্যায়ে তিনি সদর উপজেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়নের ডোমার সড়ক সংলগ্ন নটখানা এলাকায় একটি বাউন্ডারি ওয়ালের পাশে পলিথিন, ছেঁড়া ব্যানার ও খড়কুটো দিয়ে তৈরি অস্থায়ী ঝুপড়িতে বসবাস শুরু করেন।
প্রখর রোদ, বৃষ্টি ও শীত উপেক্ষা করে বছরের পর বছর ওই ঝুপড়িতেই কাটছিল তার জীবন। বয়সজনিত নানা শারীরিক সমস্যার পাশাপাশি খাদ্য ও চিকিৎসার অভাব তাকে আরও অসহায় করে তুলেছিল।
সম্প্রতি আরসিটিভিসহ একাধিক গণমাধ্যমে তার মানবেতর জীবনযাপনের চিত্র প্রকাশিত হলে বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে। সংবাদ প্রকাশের পর স্থানীয় প্রশাসনের নজরে আসে ঘটনাটি। পরে নীলফামারী জেলা প্রশাসক বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
জানা গেছে, জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে লুৎফর রহমানকে কিশোরগঞ্জ উপজেলার একটি নিরাপদ বৃদ্ধাশ্রমে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সেখানে তার থাকা, খাওয়া, চিকিৎসাসহ প্রয়োজনীয় সেবার ব্যবস্থা থাকবে। একই সঙ্গে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকেও তাকে আর্থিক ও মানবিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, বছরের পর বছর অসহায় অবস্থায় পড়ে থাকলেও লুৎফর রহমানের দুর্দশা অনেকের নজরের বাইরে ছিল। গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ এবং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতায় তার জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে।
একসময় গাছতলা ও ঝুপড়িই ছিল লুৎফর রহমানের শেষ আশ্রয়। এখন জেলা প্রশাসনের মানবিক উদ্যোগে তিনি পাচ্ছেন নিরাপদ আবাসন ও সম্মানজনক জীবনের নতুন সুযোগ। স্থানীয়দের মতে, এটি শুধু একজন অসহায় মানুষের পুনর্বাসন নয়, বরং মানবিক দায়িত্ববোধ ও সামাজিক সচেতনতারও একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
প্রকাশক: মোঃ শরিফুল ইসলাম। যোগাযোগ: মেডিকেল পূর্ব গেট, বুড়িরহাট রোড, রংপুর, বাংলাদেশ।
Copyright © 2026 RCTV ONLINE. All rights reserved.