
একদিকে কাঁটাতারের বেড়া,অন্য দিকে বন্দুকের ভয়। অনাহার রৌদ আর তৃষায় কাতর শিশুসহ ৯ জনের কাটছে মানবেতর জীবন।আশপাশের মানুষ বলতে আছে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী।মানবতাও বন্দী আজ ওই সরু ভূখন্ডে।পতাকা বৈঠকের অপেক্ষায় জীবনগুলো খুঁজছে মুক্তির আকাশ।বাংলাদেশ নাকি ভারত এই অপেক্ষা শূন্যরেখায় পরিবারসহ আছে ৯ জীবন।
তাদের মাথার ওপর খোলা আকাশ। নিচে ভেজা মাটি। নেই কোনো ঘর, নেই স্বাধীনতা, নেই আগামী দিনের নিশ্চয়তা। অথচ যাদের নিয়ে এই গল্প, তাদেরও একটি দেশ আছে—বাংলাদেশ। কিন্তু সেই দেশেই প্রবেশের অনুমতি না পেয়ে কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার গয়টাপাড়া সীমান্তের শূন্যরেখায় দুই শিশুসহ ৯ জন মানুষ কাটাচ্ছেন অনিশ্চয়তা আর আতঙ্কের দিন।
গত দুই দিন ধরে সীমান্তের এই সরু ভূখণ্ডটুকুই যেন তাদের পৃথিবী। একদিকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ), অন্যদিকে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি)। দুই দেশের অবস্থানের মাঝখানে দাঁড়িয়ে মানবিক সংকটের প্রতীক হয়ে উঠেছেন সুমি আক্তার, তার স্বামী বেলাল হোসেন এবং তাদের সঙ্গে থাকা অন্য সদস্যরা।
সুমি আক্তারের কোলে ছোট্ট শিশু। ক্ষুধা পেলে কাঁদে, আবার মায়ের বুকেই ঘুমিয়ে পড়ে। কিন্তু শিশুটির হয়তো জানা নেই, তার ঘুম ভাঙছে এমন এক জায়গায় যেখানে কোনো রাষ্ট্রের পূর্ণ আশ্রয় নেই। সুমি জানান, তারা ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার বিরুনিয়া ইউনিয়নের কংশেরকুল গ্রামের বাসিন্দা। জীবিকার সন্ধানে কয়েক মাস আগে সিলেট সীমান্ত দিয়ে ভারতে গিয়েছিলেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে এখন নিজের দেশেই ফিরতে পারছেন না।
তাদের দাবি, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী তাদের আটক করার পর গত রবিবার ভোরে বাংলাদেশ সীমান্তে ঠেলে দেয়। কিন্তু বিজিবি ও স্থানীয়দের বাধার মুখে তারা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারেননি। এরপর থেকেই সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন তারা।
স্থানীয়রা জানান, দিনভর প্রচণ্ড রোদ আর রাতে মশার উপদ্রবের মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করছেন আটকে পড়া পরিবারগুলো। শিশুদের কান্না আর বড়দের উদ্বিগ্ন মুখ সীমান্তজুড়ে এক করুণ দৃশ্যের জন্ম দিয়েছে। খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটও তাদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, কোনো ব্যক্তিকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া সীমান্তে ঠেলে দেওয়া আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতির পরিপন্থী। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের এভাবে শূন্যরেখায় আটকে রাখা মানবিক মূল্যবোধেরও পরিপন্থী।
এদিকে সীমান্ত এলাকায় ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, যদি তারা বাংলাদেশের নাগরিক হন, তাহলে তাদের পরিচয় যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হবে না কেন? আর যদি অন্য কোনো জটিলতা থাকে, তাহলে সেটিরও দ্রুত সমাধান হওয়া প্রয়োজন।
সীমান্তের শূন্যরেখায় দাঁড়িয়ে থাকা এই ৯ জন মানুষের চোখে এখন একটাই প্রত্যাশা—নিরাপদ আশ্রয়। তারা কোনো রাজনৈতিক বিতর্কের অংশ নন, কোনো কূটনৈতিক সমীকরণেরও নন। তারা শুধু মানুষ, যারা নিজেদের দেশে ফিরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চান।
জামালপুর ৩৫ বিজিবি'র অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোঃ হাসানুর রহমান বলেন,ভারতের বিএসএফকে পতাকা বৈঠকের জন্য আহবান জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোন সাড়া পাওয়া যায় নাই।
বাংলাদেশী নাগরিক দাবী করার বিষয়টি নিয়ে কথা বললে তিনি জানান,উপযুক্ত প্রমাণাদি দেখাতে না পারায় সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারছি না।
প্রকাশক: মোঃ শরিফুল ইসলাম। যোগাযোগ: মেডিকেল পূর্ব গেট, বুড়িরহাট রোড, রংপুর, বাংলাদেশ।
Copyright © 2026 RCTV ONLINE. All rights reserved.