
প্রচণ্ড অসহনীয় গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলার জনজীবন। কয়েকদিন ধরে চলা তীব্র তাপপ্রবাহে মানুষের নাভিশ্বাস ওঠার উপক্রম। এমন পরিস্থিতিতে গরম থেকে সাময়িক স্বস্তি পেতে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে কচি তালের শাঁস বা স্থানীয়ভাবে পরিচিত ‘তালের আঁটি’র চাহিদা বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। পলাশবাড়ী পৌর শহরজুড়ে এখন জমজমাট তালের আঁটির বেচাকেনা চলছে।
সরেজমিনে দেখা যায়,পলাশবাড়ী বাজারসহ উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও জনসমাগমস্থলে মৌসুমি বিক্রেতারা তালের আঁটি বিক্রি করছেন। তীব্র রোদে ক্লান্ত পথচারী, শ্রমজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ শরীর ঠান্ডা রাখতে ও তৃষ্ণা মেটাতে ভিড় করছেন এসব দোকানে।
বাজারে আকার ও মানভেদে প্রতিটি তালের আঁটি ১০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গরমের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্রেতাদের আগ্রহও বেড়েছে। ফলে মৌসুমি এই ব্যবসায় ব্যস্ত সময় পার করছেন বিক্রেতারা।
তালের আঁটি বিক্রেতা মোঃ হজরত আলী বলেন, “এবার গরম অনেক বেশি পড়েছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ক্রেতাদের ভিড় লেগেই থাকে। মানুষ গরম থেকে একটু স্বস্তি পেতে তালের আঁটি কিনছেন। প্রতিদিন ভালো বিক্রি হচ্ছে। তবে গাছ থেকে তাল সংগ্রহ করে বাজারে আনতে অনেক পরিশ্রম করতে হয়।”
এ বিষয়ে পলাশবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, “কচি তালের শাঁস একটি প্রাকৃতিক ও পুষ্টিকর খাদ্য। এতে প্রচুর পরিমাণে পানি ও বিভিন্ন খনিজ উপাদান রয়েছে, যা গরমের সময় শরীরের পানিশূন্যতা দূর করতে সহায়তা করে। পাশাপাশি তালগাছ পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই তালগাছ সংরক্ষণে সবাইকে সচেতন হতে হবে।”
স্থানীয় চিকিৎসকদের মতে, “কচি তালের শাঁসে প্রচুর পরিমাণে পানি ও খনিজ লবণ থাকায় এটি গরমের সময় শরীরের পানিশূন্যতা দূর করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। এছাড়া এটি শরীরকে সতেজ রাখতেও সাহায্য করে। তবে যেকোনো খাবার গ্রহণের ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।”
প্রচণ্ড এই পলাশবাড়ীবাসীর কাছে কচি তালের আঁটি এখন শুধু একটি মৌসুমি ফল নয়, বরং গরম থেকে স্বস্তি পাওয়ার অন্যতম প্রাকৃতিক মাধ্যম হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে মৌসুমি এই ব্যবসা অনেক ক্ষুদ্র বিক্রেতার জন্য বাড়তি আয়ের সুযোগও সৃষ্টি করেছে।
প্রকাশক: মোঃ শরিফুল ইসলাম। যোগাযোগ: মেডিকেল পূর্ব গেট, বুড়িরহাট রোড, রংপুর, বাংলাদেশ।
Copyright © 2026 RCTV ONLINE. All rights reserved.