চাঁদপুরের হাইমচরে বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে ৮ বছর বয়সি এক তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক বৃদ্ধের বিরুদ্ধে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।
রোববার (৭ জুন) সকালে তান্না বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে প্রতিবেশী ইদ্রিস হাওলাদার (৬০) তার গতি রোধ করে। শিশুটির জবানবন্দি অনুযায়ী, ইদ্রিস তার পিছু নেয় এবং একপর্যায়ে নির্জন স্থানে জোরপূর্বক তার হাত ও মুখ চেপে ধরে। পরবর্তীতে অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করে।
ভুক্তভোগী শিশু ইসরাত জাহান তান্না হাইমচর থানার জালিয়ার চর গ্রামের মো. আমজাদ মাঝি ও মালঞ্চ বেগমের কন্যা। সে জালিয়ার চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী।
ভুক্তভোগী শিশুর পিতা কর্মসূত্রে ঢাকায় অবস্থান করায় এবং এলাকায় কোনো শক্ত অভিভাবক না থাকার সুযোগ নেয় স্থানীয় একটি কায়েমি স্বার্থান্বেষী মহল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রতিবেশীরা প্রভাবশালী চক্রের ভয়ে মুখ না খুললেও ঘটনার পর দিনভর দফায় দফায় তথাকথিত সালিশি বৈঠকের নামে অপরাধটি ‘রফাদফা’ করার চেষ্টা চালানো হয়। বৈঠকে অভিযুক্তের ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং ১০০ বার জুতার আঘাতের প্রহসনমূলক রায় দেওয়া হয়।
তবে শিশুটির মা মালঞ্চ বেগম দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, ‘আমি কোনো টাকা-পয়সা চাই না, আমি আমার সন্তানের ওপর হওয়া অন্যায়ের রাষ্ট্রীয় আইনের বিচার চাই।’
বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর হাইমচর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম শফিক জানান, ‘ঘটনাটি শোনার পরপরই আমি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের সাথে কথা বলেছি। এই বিষয়ে ভবিষ্যতে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ বা সালিশের চেষ্টা তারা করবে না।’
হাইমচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত রায় বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা একটি গুরুতর এবং অ-আপোশযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ। কোনো ধরনের সালিশি দরবারের মাধ্যমে এই অপরাধের মীমাংসা সম্পূর্ণ বেআইনি, অবৈধ ও অগ্রহণযোগ্য। রাষ্ট্রীয় আইনি প্রক্রিয়ায় এর বিচার নিশ্চিত করাই একমাত্র পথ। যারা সামাজিকভাবে এই জঘন্য অপরাধের বিচার করার বা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছে, তদন্ত সাপেক্ষে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।’
হাইমচর থানার ওসি মোহাম্মদ নাজমুল হাসান জানান, ভুক্তভোগী পরিবারের মৌখিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে রাত ১১টা থেকেই পুলিশি তৎপরতা শুরু হয়েছে। অপরাধীকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে। ভুক্তভোগী পরিবারকে ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০২০)’-এর আওতায় নিয়মিত মামলা দায়েরের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
চাঁদপুর সদর ও হাইমচর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) গণমাধ্যমকে আশ্বস্ত করে বলেন, ‘সামাজিক অবক্ষয় ও এই ধরনের জঘন্য অপরাধ দমনে পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। এই ঘটনায় কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। মূল অপরাধী এবং অপরাধ ধামাচাপাদাতা— উভয় পক্ষের বিরুদ্ধেই কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
প্রকাশক: মোঃ শরিফুল ইসলাম। যোগাযোগ: মেডিকেল পূর্ব গেট, বুড়িরহাট রোড, রংপুর, বাংলাদেশ।
Copyright © 2026 RCTV ONLINE. All rights reserved.