দুই বছর আগে জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন জার্মানির কিংবদন্তি গোলরক্ষক মানুয়েল নয়ার। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে আবারও জাতীয় দলে ফিরেছেন তিনি। এই প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে বিশ্বকাপের ইতিহাসে বিরল এক রেকর্ড গড়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে তার সামনে।
২০২৪ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ শেষে জার্মান জাতীয় দল থেকে বিদায়ের ঘোষণা দেন নয়ার। সে সময় তিনি বলেছিলেন, সিদ্ধান্তটি সহজ ছিল না।
নয়ার বলেছিলেন, ‘যারা আমাকে চেনে তারা জানে, আমি হালকাভাবে এই সিদ্ধান্ত নিইনি। শারীরিকভাবে আমি ভালো ছিলাম এবং ২০২৬ বিশ্বকাপ খেলার আগ্রহও ছিল। কিন্তু আমি মনে করেছি জাতীয় দলের অধ্যায় শেষ করার এটাই সঠিক সময়।’
তবে জার্মানির প্রধান কোচ জুলিয়ান নাগেলসমান তাকে ফেরানোর ব্যাপারে সফল হয়েছেন। বায়ার্ন মিউনিখে কোচ থাকার সময়ও নাগেলসমানের অধীনে খেলেছিলেন নয়ার।
জাতীয় দলের ২৬ সদস্যের স্কোয়াড ঘোষণার সময় নাগেলসমান বলেন, ‘মানুয়েল নয়ারের ব্যক্তিত্ব, অভিজ্ঞতা ও মান সম্পর্কে সবাই জানে। আমরা তাকে এক নম্বর গোলরক্ষক হিসেবেই পরিকল্পনায় রেখেছি। তিনি নিজের দল ও প্রতিপক্ষ—উভয়ের ওপরই প্রভাব ফেলতে পারেন এবং বিশেষ মুহূর্ত তৈরি করার ক্ষমতা রাখেন।’
নয়ারের ফেরার ফলে জার্মানির হয়ে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে সব ম্যাচ খেলা অলিভার বাউমানকে দ্বিতীয় সারিতে চলে যেতে হয়েছে।
বিশ্বকাপে নয়ারের দীর্ঘ যাত্রা
২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো জার্মানির বিশ্বকাপ দলে জায়গা পান নয়ার। তখন তার বয়স ছিল ২৪ বছর এবং তিনি শালকে ০৪-এর খেলোয়াড় ছিলেন।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪-০ গোলের জয়ে নিজের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচে ক্লিন শিট রাখেন তিনি। সেই আসরে জার্মানি সেমিফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছেছিল, যেখানে পরবর্তীতে চ্যাম্পিয়ন হওয়া স্পেনের কাছে হেরে যায়।
চার বছর পর ব্রাজিল বিশ্বকাপে জার্মানির শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন নয়ার। টুর্নামেন্টজুড়ে সাত ম্যাচে মাত্র চার গোল হজম করেছিল জার্মানি। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে বিশ্বকাপের সেরা গোলরক্ষককে দেওয়া ‘গোল্ডেন গ্লাভ’ পুরস্কারও জেতেন তিনি।
হতাশার দুটি বিশ্বকাপ
২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে নয়ারের নেতৃত্বাধীন জার্মানি গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়। ১৯৫৪ সালের পর বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো এমন হতাশার মুখে পড়ে দলটি।
২০২২ কাতার বিশ্বকাপেও ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি। জাপান ও স্পেনের পিছনে থেকে গ্রুপে তৃতীয় হয়ে বিদায় নেয় চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
সেবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নয়ার লিখেছিলেন, ‘কষ্ট ও হতাশা অনেক গভীর। আমরা ধারাবাহিকভাবে নিজেদের সেরাটা দিতে পারিনি। এই বাস্তবতা মেনে নিতে সময় লাগবে।’
নতুন রেকর্ডের হাতছানি
২০২৬ বিশ্বকাপে মাঠে নামলে নয়ারের সামনে ইতিহাস গড়ার সুযোগ থাকবে।
১৪ জুন হিউস্টনের এনআরজি স্টেডিয়ামে কুরাসাওয়ের বিপক্ষে জার্মানির প্রথম ম্যাচে খেলতে পারলে এটি হবে তার বিশ্বকাপে ২০তম ম্যাচ। এর মাধ্যমে তিনি ফ্রান্সের সাবেক গোলরক্ষক উগো লরিসের বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা গোলরক্ষকের রেকর্ড স্পর্শ করবেন।
গ্রুপ ‘ই’-তে এরপর জার্মানি খেলবে আইভরি কোস্ট, ইকুয়েডরের ও কুরাসাও-এর বিপক্ষে।
এবারের ৪৮ দলের বিশ্বকাপে নতুন নকআউট কাঠামো চালু হওয়ায় গ্রুপ পর্ব পেরোনোর সুযোগও আগের তুলনায় বেশি। ফলে নয়ারের সামনে শুধু রেকর্ড স্পর্শ নয়, সেটি ছাড়িয়ে যাওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রায় দুই দশক আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে অভিষেকের পর থেকে জার্মান ফুটবলের অন্যতম নির্ভরতার প্রতীক হয়ে ওঠা নয়ার এখন বিশ্বকাপের ইতিহাসে আরেকটি মাইলফলকের খুব কাছাকাছি অবস্থান করছেন।
প্রকাশক: মোঃ শরিফুল ইসলাম। যোগাযোগ: মেডিকেল পূর্ব গেট, বুড়িরহাট রোড, রংপুর, বাংলাদেশ।
Copyright © 2026 RCTV ONLINE. All rights reserved.