
ঈদ বোনাস, মাসিক চিকিৎসা ভাতা এবং অবসর গ্রহণের ১৫ বছর পর পুনরায় মাসিক পেনশন চালুর দাবিতে ঠাকুরগাঁওয়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন ঠাকুরগাঁও গ্রামীণ ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
দীর্ঘদিন ধরে সরকারি প্রজ্ঞাপনের সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকার অভিযোগ তুলে দ্রুত দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তারা।
শনিবার (৬ জুন) দুপুরে ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাব মাঠে ঠাকুরগাঁও গ্রামীণ ব্যাংক অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি, ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার উদ্যোগে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।
মানববন্ধনে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন। এ সময় তারা বিভিন্ন দাবিসংবলিত ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য দিতে গিয়ে সংগঠনের ঠাকুরগাঁও জেলা কমিটির সভাপতি হাবিবুর রহমান বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে আমাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলন করে আসছি। ২০০৪ সালে অর্থ মন্ত্রণালয় একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে যেখানে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুই ঈদে দুটি উৎসব ভাতা প্রদানের কথা বলা হয়েছে। পরবর্তীতে ২০১৬ সালে আরেকটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে শতভাগ পেনশন গ্রহণকারীদের মাসিক চিকিৎসা ভাতা দেওয়ার বিধান করা হয়। এছাড়া ২০১৮ সালে জারি করা আরেকটি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, যারা শতভাগ পেনশন গ্রহণ করেছেন তারা অবসর গ্রহণের ১৫ বছর পর পুনরায় মাসিক পেনশন সুবিধার আওতায় আসবেন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, দেশের বিভিন্ন সরকারি ও আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠান এসব প্রজ্ঞাপন বাস্তবায়ন করলেও গ্রামীণ ব্যাংক এখনো তা কার্যকর করেনি।
তিনি আরও বলেন, আমরা কোনো অতিরিক্ত সুবিধা চাই না। আমরা শুধু সরকারি প্রজ্ঞাপনে বর্ণিত সুবিধাগুলো বাস্তবায়ন চাই। আমাদের এই দাবি সম্পূর্ণ ন্যায্য এবং আইনসম্মত। তাই আজ আমরা শান্তিপূর্ণভাবে মানববন্ধনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম হাবিব বলেন, গ্রামীণ ব্যাংকের উন্নয়ন ও সাফল্যের পেছনে হাজার হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর শ্রম, মেধা ও ত্যাগ রয়েছে। অথচ অবসরের পর আমরা অনেকেই আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছি। চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। আমরা চাই বর্তমান সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করুক এবং আমাদের ন্যায্য দাবি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করুক।
তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, সরকারের সদিচ্ছা থাকলে খুব দ্রুত এই সমস্যার সমাধান সম্ভব। আমাদের একমাত্র দাবি হলো, বিদ্যমান সরকারি প্রজ্ঞাপনগুলো গ্রামীণ ব্যাংকে কার্যকর করা হোক।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সদস্য মনতাজ আলী খান। তিনি আবেগঘন বক্তব্যে বলেন, যখন গ্রামীণ ব্যাংক আমাদের নিয়োগ দিয়েছিল তখন দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে কাজ করার জন্য তরুণ ও কর্মঠ মানুষদের বেছে নেওয়া হয়েছিল। আমরা দুর্গম এলাকায় গিয়ে দিন-রাত পরিশ্রম করেছি। আমাদের ঘাম, শ্রম ও ত্যাগের মাধ্যমে তিলে তিলে গড়ে উঠেছে আজকের গ্রামীণ ব্যাংক। কিন্তু আজ অবসরের পর সেই প্রতিষ্ঠানই আমাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে।
তিনি আরও বলেন, “আমাদের মধ্যে অনেকেই বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছেন। চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে না পেরে কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। কেউ কেউ পরিবারের প্রয়োজনীয় খরচও ঠিকমতো মেটাতে পারছেন না। অথচ আমরা আমাদের কর্মজীবনের সিংহভাগ সময় এই প্রতিষ্ঠানের জন্য উৎসর্গ করেছি। তাই আমরা কোনো দয়া বা অনুগ্রহ চাই না, চাই আমাদের প্রাপ্য অধিকার।
বক্তারা বলেন, সরকারি প্রজ্ঞাপনের সুবিধা বাস্তবায়িত হলে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে এবং তারা আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা লাভ করবেন। তারা দ্রুত বিষয়টির সমাধানে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সদস্য আব্দুল আজিজ, শাহজাহান আলম, একরামুল হক, সাবদারুল হকসহ গ্রামীণ ব্যাংকের বিপুল সংখ্যক অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী।
মানববন্ধনে বক্তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ন্যায্য দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন করা না হলে ভবিষ্যতে বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে। একই সঙ্গে তারা বর্তমান সরকারের কাছে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।
প্রকাশক: মোঃ শরিফুল ইসলাম। যোগাযোগ: মেডিকেল পূর্ব গেট, বুড়িরহাট রোড, রংপুর, বাংলাদেশ।
Copyright © 2026 RCTV ONLINE. All rights reserved.