
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পাঁচগাছি ইউনিয়নের চর সিতাইঝাড় এলাকায় ভেঙে পড়া সেতুটি এখন প্রায় তিন লাখ মানুষের নিত্যদিনের দুর্ভোগের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। একসময় এলাকার প্রাণচঞ্চল যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত সেতুটি ধসে পড়ার পর থেকে তিন ইউনিয়নের মানুষের জীবনযাত্রা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী, শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
জানা গেছে, সদর উপজেলার পাঁচগাছি-ভেলুরহাট সড়কের ওপর এলজিইডি'র ২০০৩ সালে নির্মিত সেতুটি গত ২৪ মে যাত্রীবোঝাই একটি ট্রাক্টর পারাপারের সময় হঠাৎ ধসে পড়ে। এ ঘটনায় একজন নিহত ও পাঁচজন আহত হন। দুর্ঘটনার পর থেকেই সেতুটি সম্পূর্ণভাবে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
বর্তমানে স্থানীয়রা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেতুর ওপর বসানো অস্থায়ী কাঠের পাটাতনের মাধ্যমে পারাপার হচ্ছেন। তবে রিকশা, অটোরিকশা, মোটরসাইকেল কিংবা কৃষিপণ্যবাহী যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় পাঁচগাছি, মোগলবাসা ও বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ চরম বিপাকে পড়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুটি ভেঙে পড়ার পর থেকে বাজারে কৃষিপণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। জরুরি রোগী পরিবহনেও দেখা দিয়েছে সংকট। ফলে দিন দিন বাড়ছে জনদুর্ভোগ।এ অবস্থা থেকে দ্রূত পরিত্রান চায় এলাকাবাসী।
এলাকাবাসীর দাবি, শুধু আশ্বাসে নয়, দ্রুত কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে নতুন সেতু নির্মাণ অথবা মাটি ভরাট করে যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু করতে হবে। অন্যথায় বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
স্থানীয় অটোরিকশা চালক সাইফুল ইসলাম বলেন, "আমরা দিন আনি দিন খাই। এই সড়কে গাড়ি চালিয়ে পরিবার চালাতাম। সেতু ভেঙে যাওয়ার পর আয় প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। সংসার চালানোই এখন কষ্টকর হয়ে পড়েছে।"
কৃষক মো. আবু হানিফ বলেন, "এ সড়ক আমাদের জীবনরেখা। কৃষিপণ্য, কাঁচামাল ও বাজারের সব মালামাল এই পথ দিয়েই আনা-নেওয়া করা হয়। এখন মানুষই নিরাপদে পার হতে ভয় পাচ্ছে। দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণ না হলে কৃষকদের বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।"
এদিকে সেতু ভেঙে পড়ার পর জেলা পরিষদের প্রশাসক আলহাজ্ব সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ সোহেল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, "মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সাময়িকভাবে চলাচলের জন্য কাঠের সেতুর ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্থায়ী সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
প্রকাশক: মোঃ শরিফুল ইসলাম। যোগাযোগ: মেডিকেল পূর্ব গেট, বুড়িরহাট রোড, রংপুর, বাংলাদেশ।
Copyright © 2026 RCTV ONLINE. All rights reserved.