
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শালবাহান উচ্চ বিদ্যালয়ে নির্ধারিত সময়ের আগেই ছুটি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ওই এলাকায় বিদয়ালয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সাথে পরিচালিত হয়ে আসা সীমান্তবর্তী এই শালবাহান উচ্চ বিদ্যালয়টি। সম্প্রতি নানা কারণে আলোচনায় রয়েছে বিদ্যালয়টি। শিক্ষকদের মধ্যে মতবিরোধ, নকল বাণিজ্যে জড়িত থাকার অভিযোগ, ভুয়া সনদ ব্যবহার করে বেতন উত্তোলনের অভিযোগসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কয়েকদিন ধরেই এলাকায় সমালোচনা চলছে। এরই মধ্যে এবার বিদ্যালয় নির্ধারিত সময়ের আগেই ছুটি দেয়ার অভিযোগও উঠেছে।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা ১১ মিনিটে সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয় কক্ষে তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখা যায়। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ প্রায় ফাঁকা। কয়েকজন শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয়ের বাইরে অবস্থান করতে দেখা যায়। তাদের দাবি, শিক্ষকরা আগেই বিদ্যালয় ত্যাগ করেছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ের আগেই ছুটি দিয়ে শিক্ষকরা চলে যাওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী কিছু সময় বিদ্যালয়ের বাইরে অপেক্ষা করতে বাধ্য হয়। বিষয়টি নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যেও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
বাহিরে থাকা শিক্ষার্থীরা বলেন,আজকে ২টায় বিদ্যালয় ছুটি দিয়েছে স্যাররা। কি কারনে আগে ছুটি দিয়েছে আমরা তা জানি না।
এবিষয়ে নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন,শিক্ষকরা আজকে বেতন- বোনাস পেয়েছেন ৷ ২টায় বিদ্যালয় ছুটি দিয়ে তারা ব্যাংকে বেতন তুলতে গেছেন৷
এবিষয়ে কথা হয় ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সোহেল রানার সাথে, তিনি বলেন,আমি ব্যাংকে আছি,ব্যস্ত আছি৷ আমি কাজ শেষ করে আসতেছি৷
এদিকে শালবাহান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু বক্কর ছিদ্দিক কাবুল নির্ধারিত সময়ের পূর্বে ছুটি দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন,আজকে আমি শেষ কার্যদিবস পালন করেছি৷ শিক্ষকরা থাকতে চাচ্ছে না তাই ছুটি দিয়েছি৷
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, সম্প্রতি বিদ্যালয়টিকে ঘিরে একের পর এক অভিযোগ ওঠায় শিক্ষা পরিবেশ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তারা বিষয়গুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এবিষয়ে তেঁতুলিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শওকত আলীর কাছে ওই বিদ্যালয়ে নির্ধারিত সময়ের আগে ছুটি দেয়ার বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন,এবিষয়ে জানতে আমি প্রধান শিক্ষককে ফোন দেবো, তবে ধরবে কি' না জানি না৷
প্রকাশক: মোঃ শরিফুল ইসলাম। যোগাযোগ: মেডিকেল পূর্ব গেট, বুড়িরহাট রোড, রংপুর, বাংলাদেশ।
Copyright © 2026 RCTV ONLINE. All rights reserved.