
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে নিজের খেয়াল খুশী মতো বিদ্যালয়ে আসেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে চলছে নিজের খুশীমতো।
বুধবার (১৩) মে ও বৃহস্পতিবার (১৪) মে বড়ভিটা ইউনিয়নের মেলাবার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে এমন চিত্র দেখা যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়ে ৯ জন শিক্ষক মধে ৮ জন শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে সরকারি নিয়ম নীতি তোয়াক্কা না করে নিজের খুশীমতো বিদ্যালয়ে আসেন তারা। সময়ের পরে বিদ্যালয়ে আসলেও নির্ধারিত সময়ের আগে ছুটি দেন।
সরজমিনে দেখা যায়, সকাল ৯ টা বাজলেও একজন শিক্ষক ছাড়া অন্য শিক্ষকরা আসেন নি বিদ্যালয়ে। অভিভাবকেরা শিক্ষার্থীদের নিয়ে এসে বিদ্যালয়ের বারান্দায় অপেক্ষা করছেন। সরকারি নির্ধারিত সময় পেরিয়ে সকাল ১১ টা ৩০ মিনিটে বিদ্যালয়ে আসেন সহকারী শিক্ষক মরিয়ম বেগম, ১১ টা ৩৩ মিনিটে আসেন সহকারী শিক্ষক গঙ্গা রানী ও ১১ টা ৪৭ মিনিটে আসেন সহকারী শিক্ষক চঞ্চল কুমার। সকাল ১০ টা ৫০ মিনিটে বিদ্যালয়ে আসেন সহকারী শিক্ষক আখী সরকার ,আবু হেলাল মোস্তফা কামাল আসেন ১০ টার পর ও সুচিত্রা সরকার আসেন ৯ টা ৪৭ মিনিট । তবে ১২ টা পর্যন্ত বিদ্যালয়ে আসেন নি প্রধান শিক্ষক মাসুদা বেগম।
তৃতীয় শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীর মা বলেন, আজকে আমার সন্তানের পরিক্ষা হবে এজন্য তাকে সকালে নিয়ে এসেছি তবে শিক্ষকরা ঠিকমতো আসেনি।

আরেক অভিভাবক বলেন, সন্তানকে নিয়ে এসে বিদ্যালয়ের মাঠে অনেকক্ষণ ধরে দাড়িয়ে আছি তবুও শিক্ষকরা আসেনি। পরিক্ষা শুরু হওয়ার কথা ৯ টায় এখন ১০ টা বাজলেও সেটি শুরু হয়নি।
স্থানীয় এক বাসিন্দা ভবদোষ রায় বলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ঠিকমতো বিদ্যালয়ে আসেন না। আসার সময়ে দেরী করে আবার যাওয়ার সময়ে দেরী করে যায়৷ আমরা বিষয়টি নিয়ে একবার শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানালেও তিনি কোন ধরনের ব্যবস্থা নেয়নি।
দেরিতে আসা সহকারী শিক্ষক মরিয়ম বেগম বলেন, আমার বাচ্চা খুব অসুস্থ অনেক জ্বর,তাকে ডাক্তার দেখিয়ে তারপর এসেছি এজন্য একটু সময় লেগেছে। বিষয়টি প্রধান শিক্ষককে জানিয়েছিলাম।
সকাল ১২ টার দিকে বিদ্যালয়ে এসে সহকারী শিক্ষিক আখী সরকার বলেন, আপনারা এখানে ব্যবসা করতে আসছেন। আমরা নিজের খেয়াল খুশী মতো বিদ্যালয়ে আসব, সেটা আপনাদের দেখার বিষয় না।
মেলবর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাসুদা বেগম বলেন, বিদ্যালয়ে পরিক্ষা চলছে আমি প্রশ্ন নিয়ে আসার জন্য অপেক্ষা করছিলাম৷ প্রশ্ন না হওয়ার কারনে বিদ্যালয়ে আসতে দেরী হচ্ছে।
এবিষয়ে প্রাথমিক উপজেলা শিক্ষা ডা.মাহমুদা খাতুন বলেন, বিষয়টি জানলাম আমি তদন্ত করে ব্যবস্থা নিব।
প্রকাশক: মোঃ শরিফুল ইসলাম। যোগাযোগ: মেডিকেল পূর্ব গেট, বুড়িরহাট রোড, রংপুর, বাংলাদেশ।
Copyright © 2026 RCTV ONLINE. All rights reserved.