
এক মাসেরও কম সময় বাকি পবিত্র ঈদুল আজহার। এবার ঈদুল আজহায় নীলফামারীতে চাহিদার তুলনায় ৫০ হাজারের বেশি গবাদিপশু রয়েছে। এ উপলক্ষ্যে ইতিমধ্যে পশু কেনা-বেচা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন খামারি, ক্রেতা ও ব্যাপারীরা। সুস্থ-সবল পশু বাজারজাতকরণ ও খামারিদের নানা রকম পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর।
জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর নীলফামারীতে বাণিজ্যিক ও পারিবারিক মিলিয়ে মোট ৩৪ হাজার ৮০৩টি খামারে ২ লাখ ৮২ হাজার ৮৫০টি কোরবানিযোগ্য পশু প্রস্তুত রয়েছে। এর মধ্যে ষাঁড় ৫১ হাজার ৮৮১টি, বলদ ৪ হাজার ১৬৪টি, গাভী ২৫ হাজার ৮৬৫টি, মহিষ ৯৪টি, ছাগল ১ লাখ ৮৫ হাজার ৩০৯টি এবং ভেড়া ১৫ হাজার ৫৩২টি।
এবারের ঈদে জেলায় পশুর চাহিদা রয়েছে মোট চাহিদা ২ লাখ ৩২ হাজার ৬৭৬টি হলেও প্রায় ৫০ হাজার ১৭৪টি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে, যা দেশের অন্যান্য জেলায় সরবরাহ করা হবে।
জেলায় খামারি রয়েছেন ৩০ হাজার ৯৭২ জন। এর মধ্যে সদরে পাঁচ হাজার ৮৫০, সৈয়দপুরে চার হাজার ২৭৫, ডোমারে চার হাজার ৭০২, ডিমলায় চার হাজার ৮৮৯, জলঢাকায় ছয় হাজার ১২৩ ও কিশোরগঞ্জে পাঁচ হাজার১৩৩ জন।
নীলফামারী সদর উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের আনিছুর রহমান বলেন, ‘প্রতিবছরই পারিবারিকভাবে দুটি গরু পালন করি। এবারও এক বছর আগে এক লাখ টাকায় দুটি গরু কিনে পালন করেছি। আগামী সপ্তাহে গরু দুটি হাটে তুলব। গরু ব্যবসায়ীরা বাড়িতে এসে দুই লাখ টাকা দাম হাঁকিয়েছেন। তবে আশা করছি আড়াই লাখ টাকায় বিক্রি হবে গরু দুটি।’
আরেক গরুর খামারি ডোমার উপজেলার সোনারায়ের জামিরবাড়ী গ্রামের মো. জামিয়ার রহমান বলেন, আমার ৫১টি গরু আছে যার প্রায় সবকয়টি বিক্রি উপযোগী। গরুর খাদ্যের দাম বাড়তি এতে আমাদের উৎপাদন খরচ আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। আশা করি এবার কোরবানির পশুর হাটে ভালো দাম পাব।
খামারিরা জানান, আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে পর্যাপ্ত দেশি জাতের গরু ও ছাগল পালন করা হয়েছে। গরুকে খাবার হিসেবে কাঁচা ঘাস, ব্রান্ড, খৈল, ভুট্টা এবং ধানের কুড়াসহ প্রাকৃতিক খাবার খাওয়ানো হচ্ছে। তবে পশুখাদ্যের দাম বেশি হওয়ায় গরু পালনে খরচ অনেকটা বেড়েছে। একই সঙ্গে চোরাই পথে যাতে ভারতীয় পশু ঢুকতে না সেদিকে নজর রাখার দাবি জানান তারা।
চিটাগাং শহর থেকে শরিফ নামে গরু কিনতে আসা ব্যাপারী বলেন, গত কয়েকদিন ধরে গরু কিনে ট্রাক লোড করে চিটাগাং পাঠাচ্ছি । এবার গরুর দাম বেশি মনে হচ্ছে, এরপরও কিনছি। আমরা যারা বাহিরে থেকে নীলফামারীতে ব্যবসার জন্য আসি সেই হিসেবে বাজার গুলোতে সুযোগ সু্বিধা নেই।
সিজু এগ্রো লিমিটেড স্বাধিকারী আব্দুর রহমান (মাষ্টার) বলেন, আমি একজন শিক্ষক, শিক্ষকতার পাশাপাশি এলাকায় কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে আমার খামারটি করা। এবার ঈদে ১শ বেশি গরু প্রস্তুত করেছি যা ইতোমধ্যে কয়েকটি গরু বিক্রি করছি। আশা করছি বাজারে ভালো দাম পাবো। তবে আমি কোরবানির গরু কেজি হিসেবে বিক্রি করছি। যা ব্যবসায়ী বা ক্রেতারদের মধ্যে ভালো সাড়া পাচ্ছি।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রাশেদুল ইসলাম জানান, এবার জেলায় চাহিদা ২ লাখ ৩২ হাজার ৬৭৬টি হলেও প্রায় ৫০ হাজার ১৭৪টি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে। সে হিসেবে উপরে প্রাণী দেশের অন্যত্র যাবে। খামারিরা এখন কোনো অসদুপায় অবলম্বন করে গরু মোটাতাজা করেন না। আমরা প্রতিনিয়ত খামারিদের সঙ্গে বৈঠক করি এবং তাদের সচেতন করি। আমরা পশুদের সময়মতো ভিটামিন ও ভ্যাক্সিন দেই। এ ছাড়া খামারিদের ওপর সবসময় নজরদারি থাকে।
তিনি আরও বলেন, এ বছর জেলার চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত পশু প্রস্তুত রয়েছে। কোরবানির হাটে নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও নির্বিঘ্ন বেচাকেনা নিশ্চিত করতে প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে। পশু অসুস্থ হলে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থাও থাকবে।
প্রকাশক: মোঃ শরিফুল ইসলাম। যোগাযোগ: মেডিকেল পূর্ব গেট, বুড়িরহাট রোড, রংপুর, বাংলাদেশ।
Copyright © 2026 RCTV ONLINE. All rights reserved.