
চার বছরের ছোট্ট সুমনা। যে বয়সে অন্য শিশুরা খেলাধুলা আর হাসি-আনন্দে সময় কাটায়, সেই বয়সেই চোখের জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে অন্ধকার নেমে এসেছে তার জীবনে।
ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে চোখের দৃষ্টি। আর মেয়ের চোখের দৃষ্টিশক্তি ফেরাতে অসহায়ের মতো মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন মা মুক্তা ও বাবা সুমন।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সালন্দর ইউনিয়নের চৌধুরী হাট বাতেনের মোড় গুচ্ছ গ্রামে জন্ম ছোট্ট সুমনার। জন্মের পর থেকেই ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে থাকে তার চোখের দৃষ্টিশক্তি। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্পষ্ট হতে থাকে ভয়াবহ সেই বাস্তবতা—অন্ধকারে ঢেকে যাচ্ছে ছোট্ট শিশুটির পৃথিবী।
আর সেই মুহূর্ত থেকেই শুরু হয় বাবা-মায়ের অসহায় দুশ্চিন্তা আর সন্তানের চোখের আলো ফিরিয়ে আনার নিরন্তর সংগ্রাম। সীমিত সামর্থ্য নিয়েও গত চার বছর ধরে মেয়ের চিকিৎসার জন্য দ্বারে দ্বারে ছুটে বেড়াচ্ছেন তারা।
একদিকে চিকিৎসার ব্যয়, অন্যদিকে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ—সব মিলিয়ে মানবেতর জীবন কাটছে পরিবারটির। তবুও একটাই স্বপ্ন, কোনোভাবে যেন আবার পৃথিবীটাকে দেখতে পারে তাদের আদরের সুমনা।
অভাবের কাছে হার মানতে বসেছে একটি শিশুর ভবিষ্যৎ। একটু মানবিক সহায়তা, একটু সহযোগিতাই ফিরিয়ে দিতে পারে ছোট্ট সুমনার চোখের আলো ও নতুন জীবন।
মা মুক্তা কান্নাভেজা কণ্ঠে বলেন,আমার মেয়েটা যেন পৃথিবীটা দেখতে পারে, এটাই আমার একমাত্র স্বপ্ন। কিন্তু টাকার অভাবে মেয়ের চিকিৎসা করাতে পারছি না। সমাজের হৃদয়বান মানুষদের কাছে আমি সাহায্য চাই।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ছোট্ট সুমনার চোখের অপারেশনের জন্য প্রয়োজন প্রায় ৩ লাখ টাকা। কিন্তু দিন আনা দিন খাওয়া এই অসহায় পরিবারটির পক্ষে এত বড় অঙ্কের অর্থ জোগাড় করা যেন আকাশছোঁয়া স্বপ্ন।
সামর্থ্যের শেষটুকু দিয়ে চিকিৎসা চালালেও এখন এসে তারা একেবারেই অসহায়। প্রতিদিনই মায়ের চোখে ঝরে কান্না, আর বাবার মনে একটাই ভয়—অর্থের অভাবে যদি অন্ধকারেই হারিয়ে যায় ছোট্ট সুমনার ভবিষ্যৎ।
সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষের একটু সহযোগিতাই পারে সুমনার চোখে আবার নতুন আলো ফিরিয়ে দিতে, ফিরিয়ে দিতে একটি শিশুর সুন্দর আগামীর স্বপ্ন।
প্রকাশক: মোঃ শরিফুল ইসলাম। যোগাযোগ: মেডিকেল পূর্ব গেট, বুড়িরহাট রোড, রংপুর, বাংলাদেশ।
Copyright © 2026 RCTV ONLINE. All rights reserved.