দেশে হামের ভয়াবহতা আরও বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে চারজনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছিল, আর সাতজন মারা গেছে হামের উপসর্গ নিয়ে।
এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে রোববার (১০ মে) পর্যন্ত ৫৫ দিনে দেশে হাম ও হামের উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪০৯ জনে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ বুলেটিনে বলা হয়েছে, এ সময়ের মধ্যে নিশ্চিত হাম আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৬৫ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে আরও ৩৪৪ জনের। একই সময়ে নতুন করে ২৮২ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।
সংক্রমণ পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হওয়ায় সরকার দেশজুড়ে টিকাদান ক্যাম্পেইন চালু করলেও এখনো বিপুলসংখ্যক শিশু টিকার বাইরে রয়েছে। ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, শহরাঞ্চলে এখনো ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ এবং গ্রামাঞ্চলে প্রায় ১৫ শতাংশ শিশু টিকা পায়নি। টিকাদান পরিস্থিতি দ্রুত যাচাই পদ্ধতি বা আরসিএমের তথ্য বিশ্লেষণ করে এ চিত্র পাওয়া গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের লক্ষণ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে এসেছে ১ হাজার ৫০৩ জন। তাদের মধ্যে ১ হাজার ২৭৮ জনকে ভর্তি করা হয়েছে। নতুন আক্রান্তের সংখ্যাও বেড়েছে। একই সময়ে নতুন করে ২০৫ জন হাম আক্রান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর।
হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এ পর্যন্ত সেখানে মারা গেছে ১৩৮ জন। রাজশাহী বিভাগে মৃত্যু হয়েছে ৭৮ জনের। এছাড়া বরিশালে ২৯, চট্টগ্রামে ২৭, ময়মনসিংহে ২৬, সিলেটে ২৪, খুলনায় ১৪ এবং রংপুর বিভাগে চারজনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং বরিশালের শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তথ্য সংশ্লিষ্ট সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে নতুন মৃত্যুর তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর। এর আগে শনিবার পর্যন্ত হামের উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ২৯১।
এদিকে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা পৌঁছেছে ৪৯ হাজার ১৫৯ জনে। তাদের মধ্যে ৬ হাজার ৮১৯ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত টিকাদান কার্যক্রম আরও জোরদার না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
প্রকাশক: মোঃ শরিফুল ইসলাম। যোগাযোগ: মেডিকেল পূর্ব গেট, বুড়িরহাট রোড, রংপুর, বাংলাদেশ।
Copyright © 2026 RCTV ONLINE. All rights reserved.