সবশেষ বিপিএলের নিলামে ছিলেন না এনামুল হক বিজয়-মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতসহ আরও কয়েকজন অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। মূলত ২০২৫ আসরে ফিক্সিং সন্দেহের কারণে কয়েকজন ক্রিকেটারকে খেলতে দেওয়া হয়নি।
বহুল সমালোচিত বিপিএল আসরটি নিয়ে দীর্ঘ তদন্ত শেষে এবার শাস্তির পথে হাঁটল বিসিবি। আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বিসিবি জানিয়েছে, বিপিএল ২০২৫ ফিক্সিং কাণ্ডে তদন্ত শেষে শাস্তি পাচ্ছেন ক্রিকেটারসহ ৪ জন। ৯০০ পৃষ্ঠার তদন্ত রিপোর্টে মিলেছে ফিক্সিংয়ের প্রমাণ। এর মধ্যে ক্রিকেটার হিসেবে শাস্তি পেয়েছেন ঘরোয়া ক্রিকেটার অমিত মজুমদার। এ ছাড়া টিম ম্যানেজার লাবলুর রহমানও রয়েছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আইসিসি দুর্নীতি বিরোধী কোড বা বিধিমালার (দ্য ‘কোড’) বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘনের দায়ে বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়, দলের কর্মকর্তা, ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিক এবং অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ টি-টোয়েন্টি (বিপিএল টি-টোয়েন্টি) এর ১২তম আসরকে কেন্দ্র করে বিসিবি ইনটেগ্রিটি ইউনিটের (বিসিবিআইইউ) তদন্তের প্রেক্ষিতে এই অভিযোগগুলো আনা হয়েছে। তদন্তে দুর্নীতির চেষ্টা, বেটিং বা জুয়ায় সম্পৃক্ততা, তদন্তে সহযোগিতা না করা এবং তদন্ত কাজে বাধা দেওয়ার মতো অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযোগগুলো মূলত জুয়া সংক্রান্ত কার্যক্রম, দুর্নীতির প্রস্তাব দেওয়া, বিধিমালার অনুচ্ছেদ ৪.৩ এর অধীনে জারি করা নোটিশ পালনে ব্যর্থতা, তথ্য আদান-প্রদানের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ গোপন বা মুছে ফেলা এবং নির্ধারিত দুর্নীতি বিরোধী কর্মকর্তার (ড্যাকো) সাথে সহযোগিতা না করার সাথে সম্পর্কিত। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে তারা হলেন:
মো. লাবলুর রহমান (টিম ম্যানেজার):
অনুচ্ছেদ ২.৪.৬: কোনো জোরালো কারণ ছাড়াই ড্যাকোর (DACO) তদন্তে সহযোগিতা করতে অস্বীকার বা ব্যর্থ হওয়া (অনুচ্ছেদ ৪.৩ এর অধীনে নোটিশ পালনে ব্যর্থতাসহ)।
অনুচ্ছেদ ২.৪.৭: তদন্ত কাজে বাধা সৃষ্টি বা বিলম্ব করা (তথ্য ও যোগাযোগ সংক্রান্ত প্রমাণ গোপন, মুছে ফেলা বা ধ্বংস করাসহ)।
মো. তৌহিদুল হক তৌহিদ (ফ্র্যাঞ্চাইজি সহ-মালিক):
অনুচ্ছেদ ২.৪.৬: তদন্তে ড্যাকোকে সহযোগিতা করতে অস্বীকার বা ব্যর্থ হওয়া।
অনুচ্ছেদ ২.৪.৭: তদন্ত কাজে বাধা প্রদান বা বিলম্ব করা এবং তথ্য গোপন বা ধ্বংস করা।
অমিত মজুমদার (ঘরোয়া ক্রিকেটার):
অনুচ্ছেদ ২.২.১: ক্রিকেট ম্যাচের ফলাফল, অগ্রগতি বা অন্য যেকোনো বিষয়ে বাজি ধরা বা বাজি গ্রহণ করা।
রেজওয়ান কবির সিদ্দিকী (টিম ম্যানেজার):
অনুচ্ছেদ ২.২.১: ক্রিকেট ম্যাচের ফলাফল বা খেলার যেকোনো পরিস্থিতির ওপর বাজি ধরা বা বাজিতে অংশ নেওয়া।
অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সাময়িকভাবে স্থগিত (provisionally suspended) করা হয়েছে এবং অভিযোগের জবাব দেওয়ার জন্য নোটিশ পাওয়ার পর থেকে ১৪ দিন সময় দেওয়া হয়েছে। এই পর্যায়ে বিসিবি এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করবে না।
এ ছাড়া বিপিএলের ৯ম, ১০ম এবং ১১তম আসরে দুর্নীতির সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে সামিনুর রহমানের বিরুদ্ধে ‘বিসিবি এক্সক্লুডেড পারসন পলিসি’ (বহিষ্কৃত ব্যক্তি নীতিমালা) এর অধীনে একটি 'এক্সক্লুশন অর্ডার' বা বহিষ্কারাদেশ জারি করেছে বিসিবি। তদন্তে দেখা গেছে, তিনি জুয়া সংক্রান্ত কার্যক্রম, খেলোয়াড় ও এজেন্টদের দুর্নীতির প্রস্তাব দেওয়া এবং দেশি-বিদেশি বেটিং সিন্ডিকেটের সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে ম্যাচ সংশ্লিষ্ট দুর্নীতিতে ভূমিকা রেখেছেন। নোটিশ পাওয়ার পর জনাব রহমান তার আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার ত্যাগ করে এই বহিষ্কারাদেশ মেনে নিয়েছেন।
প্রকাশক: মোঃ শরিফুল ইসলাম। যোগাযোগ: মেডিকেল পূর্ব গেট, বুড়িরহাট রোড, রংপুর, বাংলাদেশ।
Copyright © 2026 RCTV ONLINE. All rights reserved.