চলতি মৌসুমে কালবৈশাখী আর টানা বৃষ্টির কারণে বিপাকে পড়া সারা দেশের ধান চাষিদের জন্য স্বস্তির বার্তা দিয়েছে বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম (বিডব্লউওটি)। গত ২৬ এপ্রিল থেকে ৫ মে পর্যন্ত সক্রিয় বৃষ্টি বলয়ের প্রভাবে দেশের অধিকাংশ স্থানে ধান কাটার কাজ ব্যাহত হয়েছে। তবে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কৃষকের ধান ঘরে তুলতে আবহাওয়া পরিস্থিতি অনুকূলে থাকবে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।
ওয়েদার অবজারভেশন টিম ঢাকা পোস্টকে জানিয়েছে, গত কয়েকদিন ধরে চলা বৈরী আবহাওয়ার এই ধারা কাটিয়ে আগামী ৭ থেকে ১৩ মে পর্যন্ত সারা দেশে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। মূলত ৭ মে বৃষ্টি বলয় বাংলাদেশ থেকে বিদায় নেওয়ার পর থেকেই আকাশ তুলনামূলক পরিষ্কার হতে শুরু করবে। এর ফলে সাতদিন ধান কাটার জন্য চলতি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে আদর্শ ও সুবিধাজনক সময় হতে পারে। যদিও এই সময়ের মধ্যেও পুরোপুরি রৌদ্রজ্জ্বল আবহাওয়ার নিশ্চয়তা নেই এবং দেশের কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে গত কয়েকদিনের তুলনায় পরিস্থিতির অনেক উন্নতি হবে।
সংস্থাটি জানায়, এই সময়ের মধ্যে উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোতে ধান ঘরে তোলার সুযোগ সবচেয়ে বেশি থাকবে। বিশেষ করে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের জেলাগুলোসহ টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ এবং উপকূলীয় জেলা ভোলা ও পটুয়াখালীতে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা সবচেয়ে কম থাকতে পারে। এই জেলাগুলোতে সাত দিনের মধ্যে বড়জোর একদিন দুপুরের পর বা রাতে সামান্য বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে ঢাকা, সিরাজগঞ্জ, কুমিল্লা ও বরিশালসহ দেশের মধ্যাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোতে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কম থাকলেও এই সাত দিনের মধ্যে অন্তত এক থেকে দুই দিন বিক্ষিপ্ত বজ্রবৃষ্টির দেখা মিলতে পারে। তবে রাজশাহী বিভাগের নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও পাবনাসহ মেহেরপুর ও ঝিনাইদহ এলাকায় বৃষ্টির প্রভাব কিছুটা বেশি থাকার আশঙ্কা রয়েছে, যেখানে সাত দিনের মধ্যে দুই থেকে তিন দিন বৃষ্টি হতে পারে।
কৃষকদের জন্য বিশেষ সতর্কবার্তা দিয়ে বিডব্লিউওটি আরও জানায়, এই স্বস্তির আবহাওয়া খুব বেশিদিন স্থায়ী নাও হতে পারে। কারন আগামী ১৪ মে থেকে দেশে পুনরায় বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। তাই বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা পুনরায় নিয়মিত ঝড়-বৃষ্টির কবলে পড়ার আগেই ৭ থেকে ১৩ মে তারিখের এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে পরিপক্ক ধান দ্রুত কেটে ঘরে তুলতে পারে কৃষক। যদিও স্থানীয় কিছু কারণে কোনো কোনো এলাকায় পূর্বাভাসের চেয়েও বেশি বৃষ্টি হতে পারে, তবুও চরম ঝুঁকিপূর্ণ সময়ের অপেক্ষায় না থেকে এই মধ্যবর্তী সময়েই ফসল সংগ্রহ করা কৃষকদের জন্য নিরাপদ হবে।
সূত্র : ঢাকা পোস্ট
প্রকাশক: মোঃ শরিফুল ইসলাম। যোগাযোগ: মেডিকেল পূর্ব গেট, বুড়িরহাট রোড, রংপুর, বাংলাদেশ।
Copyright © 2026 RCTV ONLINE. All rights reserved.