যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় হত্যার শিকার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি মরণোত্তর ডক্টরেট ডিগ্রি পাচ্ছেন। ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা কর্তৃপক্ষ তাদের এই ডিগ্রি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। লিমন ও বৃষ্টি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি শিক্ষার্থী ছিলেন।
আগামীকাল ৮ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের বসন্তকালীন সমাবর্তনে লিমন ও বৃষ্টিকে এই ডিগ্রি দেওয়া হবে। সমাবর্তনে লিমন ও বৃষ্টির সম্মানে দুটি চেয়ার খালি রাখা হবে। শোক জানাতে পালন করা হবে এক মিনিটের নীরবতা।
এদিকে, বৃষ্টি ও লিমনকে মরণোত্তর ডক্টরেট ডিগ্রি দেওয়ার ঘোষণা এলেও প্রত্যেকের পরিবারে এখনও চাপা কষ্ট রয়ে গেছে। গত সোমবার জামালপুরের মাদারগঞ্জের লালডোবা গ্রামে বাড়ির আঙিনায় দাদা-দাদির কবরে লিমনের মরদেহ দাফন করা হয়। তবে বৃষ্টির লাশ এখনও দেশে আসেনি। বৃষ্টির বাড়ি মাদারীপুর সদর উপজেলার চরগোবিন্দপুর এলাকায়। আগামী শনিবার বৃষ্টির মরদেহ দেশে পৌঁছানোর কথা।
নিহত বৃষ্টির বাবা জহির উদ্দিন আকন্দ গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় সমকালকে বলেন, ‘বুকের মধ্যে আমৃত্যু মেয়ে হারনোর বেদনা বয়ে যেতে হবে। ভাগ্য কেন এত অসহায় হলো? ডিগ্রি আনতে গেল মেয়ে, আসবে লাশ হয়ে। এই দৃশ্য দেখব কীভাবে? ডিগ্রি সনদই হয়তো পাব, মেয়েকে তো আর পাব না! তবু ডিগ্রিটার সঙ্গে মেয়ের স্মৃতি ও সম্মান দেয়ালে সান্ত্বনা হয়ে চোখের সামনে থাকবে।’
চাচা দানিয়েল আকন্দ বলেন, ‘শেষবারের মতো ভাতিজির মুখখানি দেখার অপেক্ষায় আছি। সে খুব হাসিখুশি ছিল। অনেক কষ্ট করে ভাই এতদূর পর্যন্ত এনেছিল। সব কষ্ট নিমেষে শেষ হয়ে গেছে। ডিগ্রিটি দিলে অন্তত একটা সান্ত্বনা থাকবে।’
ছেলেকে মরণোত্তর পিএইচডি ডিগ্রি দেওয়ার ঘোষণার কথা বলতেই হাউমাউ করে কেঁদে ওঠেন নিহত লিমনের বাবা জহুরুল হক। এক পর্যায়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘ছোট ছেলে জোবায়েরের কাছ থেকে আজই এই খুশির সংবাদ পেয়েছি। ছেলেকে তো আর কোনোদিন ফিরে পাব না। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পিএইচডি ডিগ্রি আমাদের কাছে স্মৃতি হয়ে থাকবে।’
গত মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ফ্লোরিডার মায়ামির বাংলাদেশ কনস্যুলেটে চিঠি দিয়ে লিমন ও বৃষ্টিকে মরণোত্তর ডক্টরেট ডিগ্রি দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানায়। ওয়াশিংটন ডিসির বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রকাশক: মোঃ শরিফুল ইসলাম। যোগাযোগ: মেডিকেল পূর্ব গেট, বুড়িরহাট রোড, রংপুর, বাংলাদেশ।
Copyright © 2026 RCTV ONLINE. All rights reserved.