সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেল হাম পরবর্তী জটিলতায় আক্রান্ত পাঁচ মাস বয়সী শিশু তাকরিন। বুধবার (৬ মে) সকাল ১০টার দিকে রাজধানীর ইউনিভার্সেল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
হাসপাতালের নবজাতক ও শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মো. আব্দুর রাজ্জাক জানান, শিশুটি হাম পরবর্তী মারাত্মক জটিলতা নিয়ে লাইফ সাপোর্টে ছিলো। সকালে তার প্রথমবার কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট (হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ) হলে সিপিআর ও প্রয়োজনীয় ওষুধের মাধ্যমে তাকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছিলো। কিন্তু এর কিছুক্ষণ পরই দ্বিতীয়বার কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হলে সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। সকাল ১০টায় তাকে মৃত ঘোষণা করে লাইফ সাপোর্ট খুলে দেওয়া হয়।
তাকরিনের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে এই চিকিৎসক বলেন, বাচ্চাটা অনেক কষ্ট পেয়েছে। তার মৃত্যু খুবই দুঃখজনক। মঙ্গলবার একাত্তর টেলিভিশনে সংবাদ প্রকাশের পর সেতুমন্ত্রী শিশুটির দায়িত্ব নিয়েছিলেন এবং নিয়মিত খোঁজখবর রাখছিলেন।
তাকরিনের চলে যাওয়ার মধ্য দিয়ে অবসান হলো অটোরিকশা চালক মহসিন ও আমেনা দম্পতির এক হৃদয়বিদারক সংগ্রামের। একদিকে ছেলের শরীরে হামের মরণব্যাধি সংক্রমণ, অন্যদিকে বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউর পাহাড়প্রমাণ বিল—এই দুই সঙ্কটে পিষ্ট হচ্ছিলেন তারা। সন্তানের জীবন বাঁচাতে এই অসহায় দম্পতি এতোটাই মরিয়া ছিলেন যে, তাকরিন বেঁচে থাকবে এই শর্তে তাকে অন্য কারো হাতে তুলে দিতেও চেয়েছিলেন তারা।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকরিন সবাইকে ছেড়ে চলে গেলো।তাকরিনের অসুস্থতার শুরু হয়েছিল ভোলায়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকায় আনা হয়। কিন্তু রাজধানীর দুটি সরকারি হাসপাতাল ঘুরেও আইসিইউ সঙ্কটের কারণে তাকে ভর্তি করা সম্ভব হয়নি। বাধ্য হয়েই মহসিন তার সন্তানকে নিয়ে ছোটেন বেসরকারি হাসপাতালে। গত ২০ দিন ধরে হাসপাতালের বারান্দায় কাটছিরো তাদের দিন। ফলে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল পরিবারের আয়ের একমাত্র উৎস অটোরিকশা চালানোও।
বেসরকারি হাসপাতালে গত দুই সপ্তাহে তাকরিনের চিকিৎসার বিল এসেছিলো চার লাখ টাকারও বেশি। কিন্তু সহায়-সম্বলহীন বাবা মহসিন এ পর্যন্ত পরিশোধ করতে পেরেছিলেন মাত্র ২০ হাজার টাকা। একদিকে পাহাড়প্রমাণ দেনা, অন্যদিকে আদরের সন্তানকে হারানোর শোক—সব মিলিয়ে এক দিশেহারা অবস্থায় পড়েছে পরিবারটি।
প্রকাশক: মোঃ শরিফুল ইসলাম। যোগাযোগ: মেডিকেল পূর্ব গেট, বুড়িরহাট রোড, রংপুর, বাংলাদেশ।
Copyright © 2026 RCTV ONLINE. All rights reserved.