যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বন্দরগুলোতে সম্ভাব্য কয়েক মাসব্যাপী অবরোধের প্রভাব কীভাবে কমানো যায়, তা নিয়ে তেল কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আলোচনা করেছেন। বুধবার (২৯ এপ্রিল) হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন। খবর সামা টিভি অনলাইনের।
আলোচনাটি হয়েছে এমন সময়ে, যখন সংঘাত নিরসনের প্রচেষ্টা কার্যত স্থবির হয়ে আছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল রপ্তানি সীমিত করতে নৌ অবরোধ জোরদার করছে, যাতে দেশটিকে আবারও হরমুজে জাহাজ চলাচল খুলে দিতে বাধ্য করা যায়।
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হুমকির মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করছে এবং দুপক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান চলছে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।
ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ এক পোস্টে বলেন, ইরান চাইলে আলোচনায় বসতে পারে, তবে তারা এখনো ঠিকভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না।
হোয়াইট হাউসের ওই কর্মকর্তা জানান, বৈঠকে তেলবাজার স্থিতিশীল রাখতে কী পদক্ষেপ নেওয়া যায় এবং প্রয়োজনে কয়েক মাস ধরে অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার কৌশল নিয়েও আলোচনা হয়েছে, যাতে মার্কিন ভোক্তাদের ওপর প্রভাব কমানো যায়।
অবরোধ দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম বুধবার ৬ শতাংশের বেশি বেড়েছে। অপরিশোধিত তেল এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ দামে পৌঁছেছে।
যুদ্ধের কারণে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয় প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার হয়েছে বলে পেন্টাগনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, চাপ অব্যাহত থাকলে তারা হরমুজে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত করতে থাকবে। এতে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা আরও বাড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর ইউনাইটেড স্টেটস সেন্ট্রাল কমান্ড প্রধানের কাছ থেকে ট্রাম্প বৃহস্পতিবার সম্ভাব্য নতুন সামরিক পরিকল্পনা নিয়ে ব্রিফিং পাবেন।
অন্যদিকে, ইরান সতর্ক করেছে যে অবরোধ চলতে থাকলে তারা সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে। ট্রাম্প আবারও বলেছেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া হবে না।
যুক্তরাষ্ট্র একটি নতুন আন্তর্জাতিক জোট গঠনের চেষ্টা করছে, যার নাম ম্যারিটাইম ফ্রিডম কনস্ট্রাক্ট। এর লক্ষ্য হবে হরমুজে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা এবং নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে সমন্বয় করা।
তবে ফ্রান্স এবং যুক্তরাজ্যসহ কয়েকটি দেশ বলেছে, সংঘাত শেষ না হলে তারা সরাসরি অবরোধ খুলতে সহায়তা করবে না।
ইরান চায়, পারমাণবিক কর্মসূচিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকার যুক্তরাষ্ট্র স্বীকৃতি দিক। বর্তমানে ইরানের কাছে প্রায় ৪৪০ কেজি ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে, যা আরও সমৃদ্ধ করলে অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার করা সম্ভব।
ইরানের অর্থনীতিও চাপে রয়েছে। দেশটির মুদ্রার মান রেকর্ড কমে গেছে এবং এপ্রিল পর্যন্ত মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৬৫.৮ শতাংশে।
সংঘাত সমাধানে ইরান আগে যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক অবসান ও নৌ চলাচল স্বাভাবিক করার দাবি জানাচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র প্রথমেই পারমাণবিক ইস্যু সমাধানের ওপর জোর দিচ্ছে, ফলে দুপক্ষের অবস্থান এখনো অচলাবস্থায় রয়েছে।
প্রকাশক: মোঃ শরিফুল ইসলাম। যোগাযোগ: মেডিকেল পূর্ব গেট, বুড়িরহাট রোড, রংপুর, বাংলাদেশ।
Copyright © 2026 RCTV ONLINE. All rights reserved.