রংপুর রেলস্টেশন থেকে ট্রেনে চড়ে কোথাও যাওয়ার জন্য প্ল্যাটফর্মে এসে অপেক্ষা করেন যাত্রীরা। তবে অপেক্ষার ওই সময়টাতে বৃষ্টি হলেই মুশকিল। শেডের বড় বড় ছিদ্র দিয়ে পড়া বৃষ্টির পানিতে একাকার হয়ে যায় পুরো প্ল্যাটফর্ম। এতে দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাতে বৃষ্টির সময় রংপুর রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে এমন বিড়ম্বনার চিত্র দেখা যায়।
ভুক্তভোগীরা বলছেন, বর্ষাকাল এলেই বিড়ম্বনা বাড়ে রংপুর রেলওয়ে স্টেশনের প্লাটফর্মে অপেক্ষারত যাত্রীদের। সামান্য বৃষ্টি হলেই পানিতে একাকার হয়ে যায় প্লাটফর্মের বারান্দা। টিনের ছাউনি ফুটো হওয়াতে বৃষ্টির পানি পড়ে অঝোরে। এতে কাঁদাপানিতে পিচ্ছিল প্লাটফর্মে যাত্রী ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের সঙ্গে ঘটছে পা পিছলে পড়ার ঘটনাও।
প্লাটফর্মের ছাউনির সংস্কার না করায় সামান্য বৃষ্টিতে প্লাটফর্মের বারান্দায় পানি পড়তে থাকে। এতে ট্রেনের জন্য অপেক্ষায় থাকা যাত্রীদের পড়তে হয় চরম দুর্ভোগে। এই প্লাটফর্মে যাত্রী সাধারণের বসার জন্য এমনিতেই স্থান সংকুলান হয় না। এ কারণে বৃষ্টি হলে যাত্রীরা পড়ে নানান রকম বিড়ম্বনায়।
প্রতিদিন প্লাটফর্মের ছাউনির নিচে রাতযাপন করেন ভবঘুরে ভিক্ষুক মনসুর আলী। শনিবার রাতের বৃষ্টির পানিতে ভিজে একাকার হওয়া মনসুর বলেন, রাতে থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি হয়েছে। পুরো স্টেশন প্ল্যাটফর্ম কাঁদাপানিতে একাকার হয়েছে। সারারাত ঘুমাতে পারিনি। ছাউনি ফুটো থাকায় বৃষ্টি পানিতে আমার মতো অনেকেই ভিজেছেন।
স্থানীয় যুবক কামরুল হাসান বলেন, প্লাটফর্মে বসার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা নেই। তার উপর ভাসমান মানুষের আনাগোনো এখানে বেশি। এ কারণে বৃষ্টির সময় আরও বেশি দুর্ভোগ হয়ে থাকে। শুধু কি তাই, এর আশপাশে পরিষ্কার পরিচ্ছনতার কোনো বালাই নেই। এ রেলস্টেশন দেখলে বোঝার উপায় নেই এটি বিভাগীয় শহরের। রেল স্টেশনের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন ও সংস্কার না হওয়ায় বছরের পর বছর এমন দুর্ভোগ যাত্রীদের পোহাতে হচ্ছে।
একই অভিযোগ ঢাকাগামী যাত্রী সিরাজুল ইসলামের। তিনি বলেন, আমি নিয়মিত এই স্টেশন থেকে যাতায়াত করি। এখানে অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে বর্ষাকালে বেশি বিড়ম্বনা হয়। শুনেছি বছরখানেক আগে সংস্কার কাজ হয়েছে। কিন্তু দেখে বোঝার উপায় নাই কি আজ হয়েছে এই স্টেশনে।
নাজমুল হক নামের আরেক যাত্রী বলেন, শেডের চালার ছিদ্র দিয়ে ব্যাপকভাবে পানি পড়ছে। বসার কোনো পরিবেশ নেই। পানির কারণে প্ল্যাটফর্মে থাকা কষ্টকর। এতে আমাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দ্রুত শেডটি মেরামতের দাবি জানাচ্ছি।
রংপুরের নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, রংপুরবাসীর দীর্ঘদিনের নানা দাবি থাকা সত্ত্বেও রেল কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা অত্যন্ত হতাশাজনক।
সাংবাদিক ও সংগঠক এস এম পিয়াল বলেন, ১৮৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত রংপুর রেলওয়ে স্টেশনে একবার মাত্র দায়সারাভাবে উন্নয়ন কাজ হয়েছিল ১৯৪৪ সালে। এরপর ৮০ বছর পেরিয়ে গেলেও বিভাগীয় শহর হিসেবে রংপুরের এই স্টেশনটির দৃশ্যমান আর কোনো উন্নয়ন হয়নি। বিভাগীয় শহর রংপুর হলেও এই রেলস্টেশনটি ‘বি’ গ্রেডের।
রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব পলাশ কান্তি নাগ বলেন, রেল কর্তৃপক্ষ ও মন্ত্রণালয় বরাবরই উদাসীনতার পরিচয় দিয়েছে। আমরা মনে করি যোগাযোগ ব্যবস্থা আধুনিকায়নের জন্য রেলকে ঢেলে সাজানো উচিত। আমরা আর বৈষম্যের শিকার হয়ে থাকতে চাই না। দ্রুত রংপুর রেলওয়ে স্টেশনের সংস্কার করে আধুনিকায়ন করা এখন সময়ের দাবি।
এ ব্যাপারে রংপুর রেলওয়ে স্টেশনে কর্মরত কর্মচারীরা প্লাটফর্মে বৃষ্টির পানি পড়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, বৃষ্টির পানি পড়ে, তবে পুরো প্লাটফর্মে নয়। ছাউনির কিছু কিছু জায়গায় টিন কিছুটা সরে যাওয়ায় সাময়িক এই দুর্ভোগ তৈরি হয়েছে। দ্রুত ছাউনির সংস্কার করা হবে।
রংপুর রেলওয়ে স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন সুপারিনটেনডেন্ট আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, আমরা সমস্যার কথা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। আশা করছি, দ্রুতই সংস্কার কার্যক্রম শুরু হবে।
এদিকে রংপুর আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ মোস্তাফিজার রহমান জানান, শনিবার সকাল ৯টা থেকে রোববার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় রংপুরে ১২৬ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
প্রকাশক: মোঃ শরিফুল ইসলাম। যোগাযোগ: মেডিকেল পূর্ব গেট, বুড়িরহাট রোড, রংপুর, বাংলাদেশ।
Copyright © 2026 RCTV ONLINE. All rights reserved.