রাজশাহীতে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসরত ভূমিহীন পরিবারগুলোর উচ্ছেদ চেষ্টাকে ‘অন্যায় ও চক্রান্তমূলক’ আখ্যা দিয়ে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু।
তিনি বলেন, প্রকৃত ভূমিহীনদের পুনর্বাসনে খাসজমি বন্দোবস্ত দেওয়া হবে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই আরও জোরদার করা হবে।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকাল ১১টায় রাজশাহী নগরীর পদ্মা আবাসিক এলাকায় নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নওদাপাড়ার পাবনাপাড়া মহল্লার অর্পিত সম্পত্তি ঘিরে দখল ও উচ্ছেদ-সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
ভূমিমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, উচ্ছেদ করতে হলে অন্তত ছয়-সাত দিনের সময় দিতে হবে। তা না করে হঠাৎ ঘরবাড়ি ভেঙে দেওয়া মানবিক নয়, বরং অন্যায়। তিনি মনে করেন, অতীতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কিছু কর্মকর্তার ব্যর্থতার কারণেই এ ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অসহায় মানুষের পাশে থাকা তার নৈতিক দায়িত্ব বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এ সময় সাবেক সরকারের আমলে সক্রিয় কিছু ভূমিদস্যুর কঠোর সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, বিগত সময়ে ভূমিদস্যুরা জনগণের সম্পদ দখলের চেষ্টা করেছে। তিনি স্পষ্ট করে জানান, ৭০ বছর আগের মালিকানা দাবি দেখিয়ে অর্পিত সম্পত্তি দখলের কোনো সুযোগ নেই।
ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও হয়রানি প্রতিরোধে আইনি লড়াই জোরদারের আহ্বান জানিয়ে তিনি স্থানীয় আইনজীবীদের সমন্বয়ে একটি প্যানেল গঠনের পরামর্শ দেন। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ব্যক্তিগতভাবে আর্থিক সহায়তার ঘোষণাও দেন।
খাসজমি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, প্রকৃত ভূমিহীনদের মধ্যে সরকারি খাসজমি বণ্টনে সরকার আন্তরিক। প্রয়োজনে প্রতিটি পরিবারকে এক থেকে দুই কাঠা জমি বন্দোবস্ত দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এদিকে, ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সরাসরি হস্তক্ষেপ না করে স্থানীয়ভাবে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানান মন্ত্রী।
এর আগে সকাল ১০টায় ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনুর বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি ও তিন দফা দাবিতে আমরণ অনশন শুরু করেন ক্ষতিগ্রস্তরা। পরে মন্ত্রী নিজেই তাদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে পানি পান করিয়ে অনশন ভঙ্গ করান।
প্রকাশক: মোঃ শরিফুল ইসলাম। যোগাযোগ: মেডিকেল পূর্ব গেট, বুড়িরহাট রোড, রংপুর, বাংলাদেশ।
Copyright © 2026 RCTV ONLINE. All rights reserved.