রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) শহীদ আবু সাঈদের এই ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ১০৮তম সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সব ধরনের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়। তবে এই নির্দেশ মানছে না কেউই। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন শিক্ষার্থীরা।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) নিজ ব্যানারে বেরোবি শাখা ছাত্রশিবির বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা স্মারক মাঠে দুই দিনব্যাপী আয়োজন করেছে নববর্ষ প্রকাশনা উৎসব। যা আজ ও কাল সকাল ৯টা থেকে চলবে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত।
এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল, ছাত্রশিবিরসহ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পদধারী গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা প্রকাশ্যে রাজনৈতিক প্রোগ্রামে অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ ও রাজনৈতিক প্রোগ্রাম আয়োজন করছেন। এ তালিকায় রয়েছেন খোদ উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলী নিজেও।
গত ৮ এপ্রিল বেরোবি প্রক্টর ও রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর ড. মো. ফেরদৌস রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয়তাবাদী ফোরামের প্রোগ্রামে অংশ নিতে দেখা যায় ছাত্রদল, বিএনপিপন্থী শিক্ষক ও কর্মাকর্তাদের। যেখানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য । এসময় সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ করায় তীব্র বাগবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়।
এছাড়া এর আগে গত ৮ মার্চ বেরোবি শাখা ছাত্রদলের উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা স্মারক মাঠে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি এম এম মুসা, রংপুর মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব মাহফুজ-উন-নবি ডনসহ বেরোবি শাখা ছাত্রদলের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা। এখানেও অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য রাখেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ড. ফেরদৌস রহমানসহ বিএনপির বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা। এমনকি এদিন খাবার পরিবহন ও ইফতারের কাজে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্স ও মাইক্রোবাস ব্যবহার করা হয় এতে ব্যাপক সমালোচনাও তৈরি হয়েছিলো।
ছাত্রদলের ব্যানারে কেন্দ্রীয় মসজিদে দোয়া মাহফিল, বিজয় দিবসের শোডাউন, তিলাওয়াত প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন প্রোগ্রাম করতে দেখা যায়।বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, ছাত্রদল, ছাত্রশিবির সব পক্ষের এমন কার্যক্রমে ক্ষুব্ধ সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষে বেরোবি সিএসই বিভাগের শিক্ষার্থী ও শহিদ আবু সাঈদের সহপাঠী রিশাদ নুর বলেন, সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত হয়েছে শিক্ষার্থীদের চাহিদায়। শিক্ষার্থীরা যখন দেখেছে তাদের ভাই মারা গেছে, বন্ধু জেলে গেছে, ক্যাম্পাসে রাজনীতির নামে অত্যাচার চলেছে, লুট চলেছে তখন প্রতিবাদ জানিয়ে বন্ধ করেছে। এখন কিছু নব্য রাজনীতি করা মানুষ চায় পুরাতন বন্দোবস্ত। কারণ সেখানে ক্ষমতা ও টাকার ঝনঝনানি। সেই লোভে তারা বেরোবির ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থীদের চাওয়াকে উপেক্ষা করে ক্যাম্পাসে রাজনীতি ফেরাতে চায়। এর তীব্র নিন্দা জানাই। আমরা চাই না অতীত আবার ফিরে আসুক কিছু সুবিধাভোগীদের সুবিধা দেওয়ার জন্য।
বেরোবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মো. ইয়ামিন বলেন, অতীতে ছাত্রলীগের বাধার কারণে সুষ্ঠু ছাত্ররাজনীতি বাধাগ্রস্ত হয়েছিল, কিন্তু কোনো একটি সংগঠনের অপকর্মের দায়ে পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক ও গঠনমূলক রাজনীতি বন্ধ থাকতে পারে না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন হয়তো তাদের কিছু অনিয়ম ঢেকে রাখতে রাজনীতি বন্ধ রেখেছিল, তবে এখন সময় এসেছে সুস্থ ও ইতিবাচক ছাত্ররাজনীতি পুনরায় চালু করার। একই সঙ্গে যারা অপরাজনীতি করবে, তাদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনতে হবে।
বেরোবি শাখা ছাত্রশিবির সভাপতি মো. সুমন সরকার বলেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সিদ্ধান্তকে শ্রদ্ধা করি কিন্তু যেহেতু ক্যাম্পাসের ভেতরে প্রোগ্রাম করে সেই রুলস ছাত্রদলের ভাইয়েরা আগে ভেঙেছে এবং সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অতিথি ছিল। যদি শাস্তির আওতায় আনতে চায় তাহলে ক্রম অনুসারে আসুক। এজন্য আমাদেরও প্রোগ্রাম চলুক আমরাও অপরাধী হই। সাধারণ শিক্ষার্থীরা যে রায় দেবে আমরা সেই রায় মাথা পেতে নেব।
প্রকাশক: মোঃ শরিফুল ইসলাম। যোগাযোগ: মেডিকেল পূর্ব গেট, বুড়িরহাট রোড, রংপুর, বাংলাদেশ।
Copyright © 2026 RCTV ONLINE. All rights reserved.