ইউরোপিয়ান শ্রেষ্ঠত্বের মঞ্চ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে একই রাতে বিদায় নিল দুই ফুটবল জায়ান্ট বার্সেলোনা ও লিভারপুল। কোয়ার্টার ফাইনালের ফিরতি লেগে পিএসজির কাছে হেরে লিভারপুল এবং আতলেতিকো মাদ্রিদের কাছে হেরে বার্সেলোনা টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছে।
দুই জায়ান্টের বিদায়ে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে ফরাসি চ্যাম্পিয়ন পিএসজি এবং স্প্যানিশ ক্লাব আতলেতিকো মাদ্রিদ।
ঘরের মাঠ অ্যানফিল্ডে পিএসজির মুখোমুখি হয়ে শুরুতেই আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। হিলসবোরো দুর্ঘটনার স্মৃতিতে এক মিনিট নীরবতা পালন ও কালো আর্ম ব্যান্ড পরে মাঠে নামে লিভারপুল। ম্যাচে ফিরতে মরিয়া অল রেডরা শুরুতে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও মাঝপথে বড় ধাক্কা খায় হুগো একিতিকে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়লে।
তার পরিবর্তে মোহাম্মদ সালাহ মাঠে নামলে আক্রমণের ধার বাড়লেও কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায়নি স্বাগতিকরা। বিরতির পর গাকপো সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করেন এবং ভিএআরের কারণে একটি পেনাল্টি বাতিল হলে হতাশা আরও বাড়ে লিভারপুলের।
ম্যাচ যখন গোলশূন্য ড্রয়ের দিকে এগোচ্ছিল, ঠিক তখনই ৭২ মিনিটে অ্যানফিল্ডকে স্তব্ধ করে দেন উসমান দেম্বেলে। তার নিখুঁত শটে এগিয়ে যায় পিএসজি। ম্যাচের একদম শেষ সময়ে দেম্বেলে নিজের দ্বিতীয় গোলটি পূর্ণ করলে ২-০ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত হয় ফরাসিদের।
দুই লেগ মিলিয়ে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে সেমিফাইনালে পা রাখল বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। শেষ চারে তাদের লড়তে হবে রিয়াল মাদ্রিদ ও বায়ার্ন মিউনিখের মধ্যকার বিজয়ী দলের বিপক্ষে।
অন্যদিকে মেত্রোপলিতানো স্টেডিয়ামে আরেক রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে বার্সেলোনার স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে। প্রথম লেগে ২-০ গোলে পিছিয়ে থাকা বার্সা এদিন ইতিহাসের কনিষ্ঠতম একাদশ নিয়ে মাঠে নেমে অবিশ্বাস্য শুরুর ইঙ্গিত দিয়েছিল। ম্যাচের ৪ মিনিটেই লামিনে ইয়ামালের গোলে এগিয়ে যায় কাতালানরা।
২৪ মিনিটে দানি ওলমোর সহায়তায় ফেররান তোরেস বল জালে পাঠালে দুই লেগ মিলিয়ে স্কোরলাইন ২-২ সমতায় ফেরে। গ্যালারিতে তখন রূপকথার প্রত্যাবর্তনের হাতছানি।
তবে বার্সার সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ৩১ মিনিটে মার্কোস ইয়োরেন্তের পাস থেকে গোল করে ব্যবধান কমান নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড আদেমোলা লুকমান। বিরতির পর ফেররান তোরেস আরও একবার জালে বল পাঠালেও ভিএআরের সিদ্ধান্তে সেটি অফসাইড ঘোষিত হয়।
ম্যাচের শেষ দিকে এরিক গার্সিয়া লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ১০ জনের বার্সেলোনা আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি।
লেভানদোভস্কি ও রাশফোর্ড বদলি হিসেবে নেমেও স্বাগতিক রক্ষণ ভাঙতে ব্যর্থ হন। ফলে ফিরতি লেগে ২-১ গোলে জিতলেও দুই লেগ মিলিয়ে ৩-২ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে দীর্ঘশ্বাস নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় হান্সি ফ্লিকের শিষ্যদের।
দীর্ঘ ৯ বছর পর সেমিফাইনালের টিকিট কেটে উৎসবে মাতে দিয়েগো সিমিওনের আতলেতিকো মাদ্রিদ।
প্রকাশক: মোঃ শরিফুল ইসলাম। যোগাযোগ: মেডিকেল পূর্ব গেট, বুড়িরহাট রোড, রংপুর, বাংলাদেশ।
Copyright © 2026 RCTV ONLINE. All rights reserved.