সিন্দুরমতি পুকুরে হঠাৎ করেই স্বর্ণালংকার ও পুরোনো মুদ্রা পাওয়ার খবরে এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক চাঞ্চল্যের। পুকুরটি খনন, সংস্কার ও আধুনিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে মাননীয় ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রীর নির্দেশে সম্প্রতি এর পানি শুকানোর কাজ শুরু করা হয়। আর সেই পানি সরে যেতেই একে একে সামনে আসতে থাকে বহুদিনের চাপা পড়ে থাকা স্বর্ণ ও রৌপ্যের বিভিন্ন অলংকার এবং দেশি-বিদেশি ধাতব মুদ্রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পুকুরের তলদেশে নেমে মানুষজন কানের দুল, নাকফুল, মালা, চেইন, ঝুমকা, নুপুর, পায়েলসহ বিভিন্ন ধরনের স্বর্ণালংকার কুড়িয়ে পাচ্ছেন। একই সঙ্গে পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন সময়ের ব্যবহৃত দেশি-বিদেশি মুদ্রাও। ইতোমধ্যে একাধিক ব্যক্তি সর্বোচ্চ প্রায় ২ ভরি পর্যন্ত স্বর্ণালংকার এবং সহস্রাধিক মুদ্রা পাওয়ার দাবি করেছেন, যা এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আশপাশের গ্রাম ছাড়িয়ে দূর-দূরান্ত থেকেও মানুষ ভিড় করছেন সিন্দুরমতি পুকুরপাড়ে। কেউ স্বর্ণ বা মুদ্রা খোঁজার আশায়, আবার কেউ কৌতূহলবশত ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করতে ছুটে আসছেন। ফলে পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের পাশাপাশি কিছুটা বিশৃঙ্খলাও তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় প্রবীণদের মতে, এই পুকুরটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে বহু পুরোনো ইতিহাস ও লোককথা। একসময় এখানে জমিদার বা সম্ভ্রান্ত পরিবারের বসবাস ছিল বলে ধারণা করা হয়। নানা সময়ের পূজা-পার্বণ, বিয়ে বা অন্যান্য সামাজিক অনুষ্ঠানে ব্যবহার করা অলংকার হারিয়ে যাওয়া কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে পানিতে ফেলে দেওয়ার ঘটনাও ঘটতে পারে। সেই সূত্র ধরেই এত স্বর্ণালংকার ও মুদ্রা পুকুরের তলদেশে জমা হয়ে থাকতে পারে বলে তারা মনে করছেন।
তবে বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, যেকোনো মূল্যবান প্রত্নসম্পদ রাষ্ট্রের সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তাই পুকুর থেকে পাওয়া মূল্যবান সামগ্রী যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
এদিকে পুকুরটিকে ঘিরে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগ ইতোমধ্যে স্থানীয়দের মাঝে নতুন সম্ভাবনার আলো জাগিয়েছে। সঠিক পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এটি একটি আকর্ষণীয় দর্শনীয় স্থানে পরিণত হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ভিড় নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং পুকুর খনন ও সংস্কার কাজ শেষ হলে এটিকে একটি সুশৃঙ্খল পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তর করা হবে। সিন্দুরমতি পুকুরের এই আকস্মিক আবিষ্কার শুধু স্থানীয় নয়, গোটা অঞ্চলের মানুষের কাছেই এখন এক রহস্যময় আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।
প্রকাশক: মোঃ শরিফুল ইসলাম। যোগাযোগ: মেডিকেল পূর্ব গেট, বুড়িরহাট রোড, রংপুর, বাংলাদেশ।
Copyright © 2026 RCTV ONLINE. All rights reserved.