নাটোরের লালপুর উপজেলায় স্বামী-স্ত্রীর ‘জিন্দা কবর’ নেওয়ার গুজবকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি। উপজেলার দূড়দূড়িয়া ইউনিয়নের জয়কৃষ্ণপুর গ্রামে এই ঘটনাকে ঘিরে হাজারো ভক্ত ও উৎসুক জনতার ঢল নামে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং রটনার অবসান ঘটায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই গ্রামের বাসিন্দা খালেক ডাকাত ওরফে খালেক ফকির, যিনি এলাকায় ‘সিদ্ধি খালেক বাবা’ নামেও পরিচিত, সম্প্রতি নিজেকে আধ্যাত্মিক সাধক হিসেবে প্রচার করে আসছিলেন। তিনি স্থানীয় একটি পীরের মাজারের পাশেই বসবাস করেন এবং মাজারের খাদেম মৃত্যুর পর থেকে সেটির দেখভাল করে আসছেন।
গ্রামবাসীর দাবি, অতীতে চুরি-ডাকাতির সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে ‘ডাকাত খালেক’ নামে পরিচিত এই ব্যক্তি পরবর্তীতে গাঁজা ব্যবসা ও সেবনের সঙ্গে যুক্ত হন। বর্তমানে তিনি অনুসারীদের নিয়ে নিয়মিত ‘সিদ্ধি আসর’ নামে গাঁজা সেবনের আসর বসান এবং নিজেকে আধ্যাত্মিক সাধক হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন।
অভিযোগ রয়েছে, কয়েকদিন আগে খালেক ফকির ঘোষণা দেন যে, আধ্যাত্মিক সাধনার অংশ হিসেবে তিনি তার প্রথম স্ত্রীকে নিয়ে আড়াই দিন জীবিত অবস্থায় কবরে অবস্থান করবেন। এই ঘোষণার পর থেকেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে এবং বুধবার থেকে তার অনুসারীরা মাজার এলাকায় জড়ো হতে শুরু করে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, ওই অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে ভক্তদের আপ্যায়নে এক মন দুধ দিয়ে পায়েস রান্না এবং মাছ-ভাতের আয়োজন করা হয়। এছাড়া খালেক ফকির ও তার স্ত্রী দেড় মন দুধ দিয়ে গোসল করে কাফনের কাপড় পরিধান করেন। বৃহস্পতিবার সকালে তারা নতুন করে খনন করা একটি কবরে প্রবেশ করার কথা ছিল।
তবে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে দূর-দূরান্ত থেকে কৌতূহলী মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় জমাতে থাকে। এতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে খবর পেয়ে লালপুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পরিকল্পনাটি ভণ্ডুল হয়ে যায়।
লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা খনন করা কোনো কবরের অস্তিত্ব পাননি। স্থানীয় জনতা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়।
তিনি আরও বলেন, “ওই ব্যক্তি নিজেকে লালন ভক্ত হিসেবে দাবি করছেন। তবে বিষয়টি নিয়ে যাতে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে পুলিশ সতর্ক রয়েছে।”
এদিকে, এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ ও কৌতূহল বিরাজ করছে। সচেতন মহল বলছে, ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে বিভ্রান্তিকর কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।
প্রকাশক: মোঃ শরিফুল ইসলাম। যোগাযোগ: মেডিকেল পূর্ব গেট, বুড়িরহাট রোড, রংপুর, বাংলাদেশ।
Copyright © 2026 RCTV ONLINE. All rights reserved.