তুমুল নাটকীয় দিল্লি বনাম গুজরাটের ম্যাচ শেষে সবার হয়তো একটাই প্রশ্ন জাগছে, কেন রানটি নিলেন না মিলার! রোমাঞ্চকর ম্যাচে জয়ের জন্য শেষ ২ বলে ২ রান দরকার ছিল দিল্লির। প্রসিধ কৃষ্ণার করা শেষ ওভারের পঞ্চম বলে দৌড়ে ১ রান নেওয়ার সুযোগ থাকলেও তা নেননি প্রোটিয়া ব্যাটার।
অপর প্রান্তে থাকা কুলদীপ যাদবকে ফেরত পাঠান। শেষ বলটা ব্যাটেই লাগাতে পারলেন না। উল্টো প্রান্ত বদল করতে গিয়ে রানআউট হন। হারতে হারতেও ১ রানের অবিশ্বাস্য জয় পেয়েছে গুজরাট টাইটান্স। রান না নিয়ে খলনায়ক বনে গেলেন মিলার। অবশ্য অনেকে তার সমর্থনও করছেন।
গুজরাটের অধিনায়ক শুভমান গিল জানালেন, মিলার রান না নেওয়ায় বুঝে গিয়েছিলেন তাদের জয়ের সুযোগ আছে। সমালোচিত মিলারের পাশে দাঁড়িয়েছেন সুনীল গাভাস্কার।
আইপিএলে বুধবার গুজরাট টাইটান্সের বিপক্ষে ঘরের মাঠে দিল্লিকে দারুণ এক জয়ের কাছে নিয়ে গিয়েছিলেন মিলারই। ৫২ বলে ৯২ রানের ইনিংস খেলে লোকেশ রাহুল যখন আউট হন, ২১১ রান তাড়ায় দিল্লির তখন প্রয়োজন ৩ ওভারে ৪৫ রান। ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় মূলত ইনিংসের ১৯তম ওভারে। মোহাম্মাদ সিরাজের টানা তিন বলে তিন বাউন্ডারি মারলেন মিলার। ওই ওভার থেকে উঠে আসে মোট ২৩ রান!
এর আগে ব্যক্তিগত ১২ রান করার পর হাতের চোটের কারণে উঠে গিয়েছিলেন মিলার। ফিরে এসে গুজরাটের বোলারদের পিটিয়ে প্রায় একার হাতেই দলকে জয়ের দিকে নিয়ে গিয়েছিলেন। শেষ ওভারের পঞ্চম বলে তার ওই একটি সিদ্ধান্তের কারণে হারতে হয়েছে দিল্লিকে। রান নেওয়ার সুযোগ থাকলেও কুলদীপ যাদবকে স্ট্রাইক দিতে চাননি। শেষ বলে কুলদীপ রান আউট হন।

ম্যাচের পর শুভমান বলেন, “যে ক’টা ম্যাচ খেলেছি সবই শেষ ওভার পর্যন্ত গড়িয়েছে। অবশেষে জিততে পেরে খুব ভালো লাগছে। মিলার রান না নেওয়াতেই বুঝেছিলাম জেতার একটা সুযোগ আছে।” কী পরিকল্পনা ছিল শেষ বলে? শুভমান বলেছেন, “আমরা চেয়েছিলাম ইয়র্কার বা স্লোয়ার বল দিতে। যে রকম পিচ ছিল তাতে স্লোয়ার বলে মারা খুব কঠিন ছিল। এই পিচে ২১০ গড় রানের থেকে ১০-১৫ রান বেশি। জানতাম ভাল বল করলে জিততে পারব।”
সুনীল গাভাস্কার মনে করেন, কুলদীপকে স্ট্রাইক দেওয়া উচিত ছিল মিলারের। তবে যেভাবে দলকে জয়ের দিকে নিয়ে গিয়েছিলেন তার জন্য মিলারের প্রশংসা প্রাপ্য বলে মনে করেন গাভাস্কার। তার কথায়, “দলকে জেতাতে পারবে ভেবে আত্মবিশ্বাসী ছিল মিলার। যেভাবে ওই ওভারের প্রথম বলে কুলদীপ রান নিয়েছিল, তাতে শেষ বলে ওকে দায়িত্ব দেওয়াই যেত। কিন্তু আগের ওভারে অনেক ভাল শট খেলেছিল মিলার। হয়তো সে জন্যই ভেবেছিল শেষ বলে জেতাতে পারবে। একা ওকে দোষ দিয়ে লাভ নেই।”
অবশ্য ডেল স্টেইনের মতে, হিসাবে গড়বড় করে ফেলেছেন মিলার। তিনি বলছিলেন, কুলদিপের শরীরী ভাষাতেই ফুটে উঠছিল, সেখানে সে মিলারকে বলতে চাইছিল, ‘ভরসা রাখো, পারব আমি।’ কিন্তু সে (মিলার) বলে হিট করল, রান নিতে উদ্যত হলো এবং এরপর অন্য পথ বেছে নিল। সে নিজের ওপরই আস্থা রাখছিল। মাত্রই ১০৬ মিটার লম্বা ছক্কা মেরেছে, নিজের জোনে ছিল সে। অনুভব করছিল, নিজেই পারবে।”
প্রকাশক: মোঃ শরিফুল ইসলাম। যোগাযোগ: মেডিকেল পূর্ব গেট, বুড়িরহাট রোড, রংপুর, বাংলাদেশ।
Copyright © 2026 RCTV ONLINE. All rights reserved.