ক্যাম্প ন্যুতে দাপুটে পারফরম্যান্সের পরও হেরে বড়সড় হোঁচট–ই খেয়েছে বার্সেলোনা। মূলত ৪৫ মিনিটেরও বেশি সময় তারা একজন কম নিয়ে খেলায় অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ সুযোগের পুরো সদ্ব্যবহার করেছে। বিপরীতে আক্রমণের ঝড় তুললেও ফিনিশিংয়ের ব্যর্থতায় ভুগেছে হ্যান্সি ফ্লিকের শিষ্যরা। দিয়েগো সিমিওনের দল ২-০ গোলে জিতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে ওঠার পথে একধাপ এগিয়ে রইল।
২০০৬ সালের পর কখনোই ক্যাম্প ন্যুতে বার্সাকে হারাতে পারেনি অ্যাতলেটিকো। এমনকি ১৯ বারের চেষ্টায় গতকালই (বুধবার) এই ভেন্যুতে প্রথমবার জয়ের স্বাদ পেলেন সিমিওনে। বার্সার মাঠ থেকে হুলিয়ান আলভারেজ ও আলেক্সান্ডার সরলথের গোলে অ্যাতলেটিকো জয় নিয়ে ফিরল। ৪৪ মিনিটে পাউ কুবারসি লাল কার্ড দেখায় যে ধাক্কাটা খেয়েছে কাতালানরা, সেটি পরে আর কাটিয়ে উঠতে পারেনি।

অথচ ৫৮ শতাংশের বেশি পজেশনের পাশাপাশি গোলের জন্য ১৮টি শট নেয় বার্সেলোনা, এর মধ্যে ৭টি লক্ষ্যে থাকলেও গোলের দেখা পায়নি তারা। বিপরীতে ৫ শটের মধ্যে ৩টি লক্ষ্যে রেখেই সফল অ্যাতলেটিকো। কয়েকদিন আগে মাদ্রিদের ক্লাবটিকে তাদের মাঠে হারিয়ে এসেছিল। এর আগে অবশ্য গত ফেব্রুয়ারিতে কোপা দেল রের সেমিফাইনালের প্রথম লেগে ওই ভেন্যুতে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছিল ফ্লিকের দল। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ কোয়ার্টারের আসন্ন দ্বিতীয় লেগও তবে সেই মাদ্রিদের মেট্রোপলিটনে। মঙ্গলবার ফিরতি লেগে দুই গোলের ব্যবধান ঘুচিয়ে বার্সার জয়টা কঠিনই হবে।
ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই মার্কাশ রাশফোর্ড সুযোগ পেয়ে অ্যাতলেটিকো গোলরক্ষক বরাবর শট নেন। খানিক বাদে আরেকটি ধীরগতির শট ব্যর্থ হয় তার। এরপর আলভারেজের শট অনায়াসে হাতে আটকান বার্সা গোলরক্ষক হুয়ান গার্সিয়া। এভাবে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ চললেও, ক্রমাগত চাপটা বেশি ছিল অ্যাতলেটিকোর ওপর। প্রায় বোতলবন্দি করে রাখার কৌশল এড়িয়ে ৩০ মিনিটের পর লামিনে ইয়ামাল বক্সে ঢুকে শট নিলেও আটকে যায় প্রতিপক্ষ ফুটবলারের গায়ে লেগে। ততক্ষণ পর্যন্ত সব ঠিকই ছিল, প্রবল ধাক্কাটা আসে ৪৩ মিনিটে জুলিয়ানো সিমিওনেকে বার্সা ডিফেন্ডার কুবারসি ফাউল করলে। প্রথমে হলুদ কার্ড দেখালেও, ভিএআর দেখে লাল কার্ডের সিদ্ধান্ত জানান রেফারি।
বক্সের বাইরে পাওয়া সেই ফ্রি-কিকে খুব ভালেভাবে কাজে লাগিয়েছেন আলভারেজ। যেখানে দারুণ এক গোলে আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড অ্যাতলেটিকোকে এগিয়ে দেন। যা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের চলতি মৌসুমে তার নবম গোল, ক্লাবটির হয়ে এই প্রতিযোগিতার কোনো আসরে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড গড়লেন আলভারেজ। একজন কম নিয়েও আক্রমণ অব্যাহত রাখে বার্সা। ৫০ মিনিটের পর ইয়ামালের থ্রু বল পেয়ে আগুয়ান গোলরক্ষককে কাটালেও পাশের জালে লাগে রাশফোর্ডের শট।

ইংলিশ ফরোয়ার্ডের আরেকটি জোরালো শট কর্নারের বিনিময়ে ঠেকান অ্যাতলেটিকো গোলরক্ষক হুয়ান মুসো। ৫৯ মিনিটে ইয়ামালের কর্নার গাভির হেড থেকে গোলবারের সামনে দিয়ে গেলে পা ছোঁয়াতে ব্যর্থ জুলস কুন্দে। সমতায় ফিরতে মরিয়া বার্সা দ্বিতীয় গোল হজম করে ৭০ মিনিটে। ধারার বিপরীতে উঠে অ্যাতলেটিকোকে আরও এগিয়ে দেন সরলথ। বদলি নামা এই ফরোয়ার্ড সতীর্থের ক্রস পেয়ে ভলিতে বল জালে জড়ান। এরপর আরও কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও গোল পাওয়া হয়নি বার্সার। ফলে হার নিশ্চিত করে ২-০ ব্যবধানে।
প্রকাশক: মোঃ শরিফুল ইসলাম। যোগাযোগ: মেডিকেল পূর্ব গেট, বুড়িরহাট রোড, রংপুর, বাংলাদেশ।
Copyright © 2026 RCTV ONLINE. All rights reserved.