লালমনিরহাটের তিস্তা ব্যাটালিয়ন (৬১ বিজিবি) এর অধীনস্থ ধবলগুড়ি সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে মোঃ আলী হোসেন (৪৯) নামে এক বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন। আজ বুধবার ভোর রাতে এ ঘটনা ঘটে।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (০৮ এপ্রিল) মধ্যরাতে সাত-আট জন বাংলাদেশি নাগরিক ভারতীয় সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া কাটার উদ্দেশ্যে গমন করেন। এসময় টহলরত বিএসএফ সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে প্রথমে সতর্কতামূলক গুলি চালায়। এক পর্যায়ে বিএসএফ সদস্য ও চোরাকারবারীদের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এর ফলে বিএসএফের গুলিতে ঘটনাস্থলেই মোঃ আলী হোসেন নিহত হন।
আজ সকাল ১১টায় সীমান্ত পিলার ৮৭৪/৫-এস এর নিকটবর্তী সাতগ্রাম নামক স্থানে ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে এক জরুরি স্পট পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিজিবির পক্ষে নেতৃত্ব দেন ৬১ তিস্তা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সৈয়দ ফজলে মুনীম। বিএসএফের পক্ষে নেতৃত্ব দেন ১৫৬ ব্যাটালিয়ন বিএসএফ কমান্ড্যান্ট শ্রী সৌরভ। বৈঠকে বিজিবির পক্ষ থেকে সীমান্তে এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয় এবং বলা হয় যে, এ ধরণের হত্যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রতিবাদে বিজিবির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক 'প্রোটেস্ট নোট' প্রদান করা হয়েছে। ব্যাটালিয়ন ছাড়াও সেক্টর ও রিজিয়ন সদর দপ্তর থেকেও এই ঘটনার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
বিএসএফ কমান্ড্যান্ট দাবি করেন, নিহত ব্যক্তি চিহ্নিত চোরাচালানকারী ছিলেন এবং তারা বিএসএফ সদস্যকে আঘাত করায় আত্মরক্ষার্থে গুলি চালানো হয়েছে। তবে এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঘটনায় বিএসএফ কমান্ড্যান্ট আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেন।
আইনি প্রক্রিয়া শেষে আজ রাত নয়টার দিকে সীমান্ত পিলার ৮৬৮/৩ এর নিকট বিজিবি ও বিএসএফের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে লাশ হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। ভারতের মাথাভাঙ্গা থানা পুলিশ বাংলাদেশের পাটগ্রাম থানা পুলিশের নিকট নিহতের মরদেহ হস্তান্তর করে। পরবর্তীতে পাটগ্রাম থানা পুলিশ নিহতের বড় ভাই আনোয়ার হোসেনের কাছে মরদেহটি বুঝিয়ে দেয়।
তিস্তা ব্যাটালিয়নের (৬১ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সৈয়দ ফজলে মুনীম এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পুরো বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রকাশক: মোঃ শরিফুল ইসলাম। যোগাযোগ: মেডিকেল পূর্ব গেট, বুড়িরহাট রোড, রংপুর, বাংলাদেশ।
Copyright © 2026 RCTV ONLINE. All rights reserved.