ভারতে ভোটের সময় এলেই রাজনীতির আঙিনায় শুরু হয় দাবার চাল। আর নির্বাচনের সেই আবহে তখন যুক্ত হয় প্রযুক্তির এক ভয়ংকর মারণাস্ত্র,'ডিপ ফেক'। পর্দার হিরোরা যখন অজান্তেই রাজনীতির 'পোস্টার বয়' হয়ে যান, তখন সাধারণ মানুষের চোখে ধুলো দেওয়া কত সহজ, তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা। রণবীর সিং থেকে আমির খান— প্রযুক্তির কারসাজিতে নাজেহাল সুপারস্টাররা।
ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ লোকসভা ভোটের ঠিক আগে হঠাৎ একটি ভিডিও দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে। প্রকাশিত সেই ভিডিওতে দেখা যায়, অভিনেতা রণবীর সিং এক রাজনৈতিক দলের তীব্র সমালোচনা করছেন এবং জনতাকে 'ন্যায়ের' পক্ষে ভোট দিতে বলছেন। ভিডিওটি এতটাই নিখুঁত ছিল যে কট্টর সমালোচকরাও অবাক হয়ে গিয়েছিলেন। পরে রণবীর নিজেই এক্স হ্যান্ডেলে সতর্কবার্তা দিয়ে লেখেন,’বন্ধুরা, ডিপ ফেক থেকে বাঁচুন।" জানা যায়, এআই ব্যবহার করে তার কণ্ঠস্বর ও মুখমণ্ডল বিকৃত করা হয়েছিল।
এরপর সুপারস্টার আমির খানকেও একই ফাঁদে ফেলা হয়। একটি নির্দিষ্ট দলের হয়ে প্রচার করার ভিডিও ভাইরাল হতেই মুম্বই পুলিশ এফআইআর দায়ের করে অজ্ঞাত পরিচয়কারীদের বিরুদ্ধে এবং আমিরের টিমের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়, "৩৫ বছরের ক্যারিয়ারে আমির কখনও কোনও রাজনৈতিক দলের প্রচার করেননি।" । তারপর পুলিশের তদন্তে উঠে আসে ৪১৯ (ছদ্মবেশ) এবং ৪২০ (প্রতারণা)-র মতো ধারা।
এদিকে ভারতীয় অভিনেতা আশুতোষ রানা বিষয়টিকে 'চরিত্রহনন' হিসেবে উল্লেখ করে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে, দক্ষিণী মেগাস্টার অল্লু অর্জুনকেও ছাড়েনি প্রতারকরা। ২০২২ সালের একটি পুরনো ভিডিওকে এডিট করে দাবি করা হয় তিনি নাকি কংগ্রেসের হয়ে ভোট প্রচারে নেমেছেন।
শুধু তাই নয়, অভিনেতাদের পাশাপাশি রাজনীতির উর্ধ্বে গিয়ে রাশমিকা মান্দানা, ক্যাটরিনা কাইফ এবং আলিয়া ভাটের মতো অভিনেত্রীরাও ডিপ ফেকের শিকার হয়েছেন। তাদের ক্ষেত্রে বিষয়টি ব্যক্তিগত সম্মানহানি ও অশ্লীলতার পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল।
প্রকাশক: মোঃ শরিফুল ইসলাম। যোগাযোগ: মেডিকেল পূর্ব গেট, বুড়িরহাট রোড, রংপুর, বাংলাদেশ।
Copyright © 2026 RCTV ONLINE. All rights reserved.