যুক্তরাষ্ট্র ও দখলদার ইসরাইলের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র বাংকার ও সাইলো থেকে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেগুলো আবার সচল করছে ইরান। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) দ্য নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়, তেহরান উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র ও মোবাইল লঞ্চার অক্ষত রাখতে পেরেছে। এতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংসের লক্ষ্যে ওয়াশিংটন কতটা সফল হয়েছে—তা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে।
ইরানের বর্তমান প্রকৃত সক্ষমতা সম্পর্কে দ্বন্দ্ব রয়েই গেছে। কারণ বিভ্রান্তি ছড়াতে প্রচুর পরিমাণে ‘ডিকয়’ বা ভুয়া লক্ষ্যবস্তু ব্যবহার করছে তেহরান। এর ফলে প্রকৃত ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার কতটা ধ্বংস হয়েছে, তা নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলো দেখে পুরোপুরি অকার্যকর মনে হলেও, বাস্তবে সেগুলো থেকে দ্রুত লঞ্চার উদ্ধার করে আবার হামলায় ব্যবহার করা হচ্ছে।
ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত লক্ষ্য—ইরানের ব্যালিস্টিক সক্ষমতা সম্পূর্ণ ধ্বংস—বাস্তবে কতটা অর্জিত হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
একইসঙ্গে, সিএনএন এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘদিনের টানা হামলার পরও ইরানের প্রায় অর্ধেক লঞ্চার অক্ষত রয়েছে। যদিও কিছু লঞ্চার ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ায় আপাতত অচল, তবুও সামগ্রিক সক্ষমতা পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি। বরং প্রতিদিন ১৫–৩০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ৫০–১০০টি ড্রোন নিক্ষেপের তথ্য ইরানের আক্রমণক্ষমতা এখনও উল্লেখযোগ্য বলেই ইঙ্গিত দেয়।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অভিযানকে সফল বলেই দাবি করছেন। তাদের মতে, ইরানের হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং সামরিক অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে বাস্তব পরিস্থিতি ও গোয়েন্দা প্রতিবেদনের মধ্যে এই পার্থক্যই মূলত বর্তমান সংঘাতের জটিলতাকে সামনে এনে দেয়।
প্রকাশক: মোঃ শরিফুল ইসলাম। যোগাযোগ: মেডিকেল পূর্ব গেট, বুড়িরহাট রোড, রংপুর, বাংলাদেশ।
Copyright © 2026 RCTV ONLINE. All rights reserved.