
রংপুর বিভাগসহ উত্তরাঞ্চলের আট জেলায় অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছে ট্যাংকলরী শ্রমিকরা। এর ফলে পুরো অঞ্চলে জ্বালানি তেল সরবরাহ কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে, যা জনজীবন ও পরিবহন ব্যবস্থায় বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।
রোববার সকাল ৮টা থেকে দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেলহেড অয়েল ডিপো থেকে তেল উত্তোলন ও সরবরাহ বন্ধ রেখে এই কর্মসূচি পালন করছে বিভাগীয় ট্যাংকলরী শ্রমিক ইউনিয়ন। শ্রমিকদের এই আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছে পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতিও। ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে।
শ্রমিক ইউনিয়ন সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (২৮ মার্চ) পার্বতীপুর রেলহেড অয়েল ডিপো থেকে যমুনা অয়েল কোম্পানির জ্বালানি তেল নিয়ে একটি ট্যাংকলরী নীলফামারীর উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। পথে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে গাড়িটি থামিয়ে চালক ও সহকারীরা মেরামতের কাজ করছিলেন। এ সময় নীলফামারী জেলার এনডিসি নিয়াজ ভূঁইয়া সেখানে উপস্থিত হয়ে তেল চুরির অভিযোগ আনেন।
পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে লরি ম্যানেজার একরামুল হক, চালক শ্রীকৃষ্ণ ও সহকারী রিফাতকে ছয় মাসের কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। শ্রমিকরা এ ঘটনাকে ‘হয়রানিমূলক’ আখ্যা দিয়ে এর প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ডাক দেয়।
রংপুর বিভাগীয় ট্যাংকলরী শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আতাউর রহমান বলেন, আমাদের শ্রমিকরা কোনো চুরির সঙ্গে জড়িত ছিল না। তারা কেবল যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে গাড়ি মেরামত করছিল। অবিলম্বে তাদের মুক্তি দিতে হবে। অন্যথায় আন্দোলন আরও কঠোর করা হবে।
তিনি অভিযুক্ত কর্মকর্তার বদলির দাবিও জানান।
এ বিষয়ে পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাদ্দাম হোসেন জানান, বিষয়টি সমাধানে প্রশাসনের পক্ষ থেকে শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। তিনি বলেন,মোবাইল কোর্টের দেওয়া সাজা থেকে সরাসরি নিঃশর্ত মুক্তির সুযোগ নেই। এ ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়ায় আপিল করতে হবে। শুনানি হলে দ্রুত জামিন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে শ্রমিকরা আপিলের পথে না গিয়ে তাৎক্ষণিক মুক্তির দাবিতে অনড় অবস্থানে রয়েছেন। ফলে কবে নাগাদ এই অচলাবস্থা কাটবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
প্রকাশক: মোঃ শরিফুল ইসলাম। যোগাযোগ: মেডিকেল পূর্ব গেট, বুড়িরহাট রোড, রংপুর, বাংলাদেশ।
Copyright © 2026 RCTV ONLINE. All rights reserved.