
ঘুরছে সেলাই মেশিনের চাকা। সেই সাথে ঘুরছে সংসারের চাকাও। বিশেষ করে, ঈদকে সামনে রেখে ভাগ্যের চাকার গতি বাড়াতেই দিনরাত এক করে কাজ করে চলেছেন নীলফামারী জেলার বিভিন্ন উপজেলার সেলাই কারিগররা।
ঈদকে সামনে রেখে ফ্যাশন-সচেতন আর রুচিশীল ব্যক্তিরা ছুটছেন দর্জি বাড়িতে। আগেভাগেই নিজেদের পছন্দসই জামা-কাপড় বানিয়ে রাখছেন তারা। এজন্য দর্জি পাড়ায় বেড়েছে ঈদ কেন্দ্রিক ব্যস্ততা। চাঁদ রাতের আগেই ক্রেতারাদের হাতে পোশাক তুলে দিতে দিন-রাত কাজ করছেন কারিগররা।
বিভিন্ন উৎসবে-পার্বণে দর্জির কাছে পছন্দের পোশাক বানানোর রীতি-রেওয়াজ বাঙালির ঐতিহ্যের অংশ। তাই দর্জির দোকানে ভিড় করছেন সব শ্রেণি-পেশার মানুষই। একদিকে সেলাই মেশিনের খটখট আওয়াজ। পাশেই চলছে মাপ অনুযায়ী কাপড় কাটা। ফরমায়েশ নেয়া হচ্ছে নতুন পোশাকের। রমজানের শেষ সময়ে এসে মহাব্যস্ত হয়ে উঠেছে দর্জিবাড়িগুলো। বিরতিহীন সেলাই মেশিনের যান্ত্রিক শব্দ বলছে, দম ফেলার ফুরসত নেই কারিগরদের। আর এ ব্যস্ততা চলবে চাঁদরাত পর্যন্ত।
পলাশবাড়ী বাজারে বিসমিল্লাহ টেইলার্সের কারিগর দুলাল চন্দ্র রায় বলেন, আমরা আগে কাজ করতাম ৭/৮ ঘন্টা তবে এবার ঈদের কাজে চাপ বেশি। বর্তমান আমাদের প্রায় ১২ ঘন্টার বেশি কাজ করতে হচ্ছে। তারপরও সবাই যাতে সুন্দর ভাবে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারে। যদিও আমাদের কষ্ট হয়, এরপরও কাজ গুলো দিতে পারলে আমরা খুশি।
গতবারের মতো এবারও আমাদের অর্ডার বেশি। ঈদের এই সময়টা আমাদের অর্ডার বেশি আসে। রাত জেগে কাজ করতে হচ্ছে খাওয়া ঘুমের সময় পাচ্ছিনা কাজের চাপে। ঈদের দিন সকাল পর্যন্ত কাজ চলে আর জামা কাপড় ডেলিভারি ও করি।

পলাশবাড়ী বাজারে বিসমিল্লাহ টেইলাসের প্রধান কারিগর আলমগীর হোসেন বলেন, সারা বছরের কাজের চেয়ে ঈদের সময়ে কাজের চাপ বেশি থাকে। এই সময় টায় আমারা একটু বাড়তি ইনকাম করি। এই সময়টা আমাদের একটু চাপের মধ্যে দিয়ে যায়।
তবে অনেক টেইলার্সের মালিক বলেন, ক্রেতা খরায় ভুগছে। তাদের কাজের ব্যস্ততা বছরের অন্য দিনের মতোই। তাদের অভিযোগ, আগের মত এই পেশায় মানুষ থাকতে চাই না। কারণ সব কিছুর দাম বাড়লে ও আমাদের কাজের মজুরি বাড়েনি। আর মানুষ রেডিমেড জামা কাপড় এখন কিনে বেশি পরে।
পলাশবাড়ী বাজারে বিসমিল্লাহ টেইলার্সের হাফেজ বেলাল হোসেন বলেন, আমাদের যতোগুলো কাজ অর্ডার নেওয়া আছে। ঈদের আগেই দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আমরা দিনরাত কাজ করছি যাতে সবাই আনন্দের সাথে নতুন কাপড়ে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারে। মেয়েরা যেমন নিত্যনতুন বিভিন্ন ডিজাইনের পোশাক বানাতে আসছেন, তেমনি ঈদের সময় শার্ট-প্যান্টের চেয়ে ছেলেদের বেশি আগ্রহ পাঞ্জাবিতে। তবে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির আঁচ লেগেছে দর্জিবাড়িতেও। যেখানে উত্তাপ ছড়াচ্ছে মজুরি।
প্রকাশক: মোঃ শরিফুল ইসলাম। যোগাযোগ: মেডিকেল পূর্ব গেট, বুড়িরহাট রোড, রংপুর, বাংলাদেশ।
Copyright © 2026 RCTV ONLINE. All rights reserved.