নীলফামারীতে গরু চুরির ঘটনার পরপরই পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে চোরচক্রের আস্তানা থেকে ৯টি চোরাই গরু উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় চোরচক্রের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে সে চুরির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।
পুলিশ ও মামলার সূত্রে জানা যায়, গত ৯ মার্চ ভোরে সদর উপজেলার পলাশবাড়ী ব্রাহ্মণপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. আব্দুল আজিজ খানের গোয়ালঘর থেকে অজ্ঞাত চোরেরা রাতের আধারে ৩টি গরু চুরি করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় পরদিন ১০ মার্চ নীলফামারী থানায় পেনাল কোডের ৪৫৭/৩৮০ ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলা দায়েরের পর পুলিশ চোরচক্রকে ধরতে অভিযান শুরু হয়।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১০ মার্চ রাত সাড়ে ১১টায় পলাশবাড়ী কানাইকাটা এলাকার বাসিন্দা সুজন ইসলাম (২৪) কে তার নিজ বাড়ি থেকে আটক করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে সে গরু চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে এবং চোরাই গরুর অবস্থান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেয়। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ১১ মার্চ রাত ১২টা ৪০ মিনিটে তার বাড়ির পেছনের ভুট্টাক্ষেতে অভিযান চালিয়ে বাদীর একটি গরুসহ আরও দুটি গরু উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তীতে আরও জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, বাদীর বাকি গরুগুলো তরুনীবাড়ি গ্রামের এক মোস্তাকিনের বাড়িতে রাখা হয়েছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ধৃত আসামি ও বাদীকে সঙ্গে নিয়ে ওই বাড়িতে অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মোস্তাকিন পালিয়ে গেলেও তার বাড়ির আধাপাকা টিনশেড ঘর থেকে বাদীর আরও দুটি গরুসহ মোট ৬টি গরু উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, দুই স্থানে অভিযান চালিয়ে সর্বমোট ৯টি গরু উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত সুজন ইসলামের ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করার প্রক্রিয়া চলছে এবং তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত চোরচক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গরু চুরি ও অন্যান্য অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান আরও জোরদার করা হবে এবং অপরাধীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।
প্রসঙ্গতঃ এর আগে ( ৬ মার্চ) "প্রবাসীর বাড়িতে রাতের আঁধারে ২টি গরু চুরি" আরসিটিভিতে সংবাদ প্রচারের পর নড়েচড়ে বসে প্রশাসন।
প্রকাশক: মোঃ শরিফুল ইসলাম। যোগাযোগ: মেডিকেল পূর্ব গেট, বুড়িরহাট রোড, রংপুর, বাংলাদেশ।
Copyright © 2026 RCTV ONLINE. All rights reserved.