প্রেশার কুকার’ সিনেমা দিয়ে ঢালিউডে অভিষেক হচ্ছে রংপুরের মেয়ে স্নিগ্ধা চৌধুরীর। এরই মধ্যে দুটি সিনেমার প্রস্তাব পেয়েছেন। ঈদের আগে মডেলিং ও সিনেমার প্রচারণা নিয়ে ব্যস্ত তরুণ অভিনেত্রী। সম্প্রতি তাঁর একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশ পেয়েছে। ডিআরবি নিউজের পাঠকদের জন্য নিচে তুলে ধরা হল:
পরিচালক রাফীর সঙ্গে কীভাবে পরিচয়?
স্নিগ্ধা চৌধুরী: আমার এক বন্ধুর মাধ্যমে। পরে আমরা ফেসবুকে বন্ধু হই। এর মধ্যে সিনেমা নিয়ে আমাদের কথা হয়। চরিত্রের জন্য আমাকে পছন্দ করেন। এভাবে প্রথম সিনেমায় নাম লেখানো। নিয়মিত গ্রুমিং করতে হয়েছে। রাফী কেন সেরা, সেটা বুঝেছি। শুটিংয়ে সব সময়ই তিনি সেরাটা চেয়েছেন। শুটিং পর্ব খুবই কঠিন ছিল।
মডেলিং নাকি সিনেমা, কোনোটার প্রতি ভালোবাসা বেশি?
স্নিগ্ধা চৌধুরী: আমার প্রথম ভালোবাসা মডেলিং। প্রথম প্রেম কী কখনো ভোলা যায়! দ্বিতীয় সিনেমা। দুটোকে ব্যালান্স করেই ভালোবাসতে চাই। কারণ, এখন তো বেশির ভাগই ঈদকেন্দ্রিক সিনেমা। বছরে কয়টা সিনেমা হয়? তার মধ্যে এত নায়িকা। নতুনেরা আসছেন। বাকি সময় কী করব? মডেলিং সিনেমা একসঙ্গেই চালিয়ে যাব।
মডেলিংয়ের শুরু কীভাবে?
স্নিগ্ধা চৌধুরী: শৈশব থেকেই প্রচুর ফ্যাশন টিভি দেখতাম। ১০ বছর বয়স থেকেই নিজেকে মডেল ভাবতাম। বন্ধু–পরিবারের লোকজন সবাই আমাকে ক্যাটরিনা কাইফ বলে ডাকত। এটা আমার ডাকনাম হয়ে গেছে। আমার উচ্চতা আর গায়ের রঙের কারণে এখনো অনেকেই এই নামে ডাকে। আমারও মনে হতো ক্যাটরিনা কাইফের মতো হতে হবে। ক্যাটরিনা আমাকে অনেক অনুপ্রাণিত করে, এটা সত্য।
আপনার পড়াশোনা, বেড়ে ওঠা কই?
স্নিগ্ধা চৌধুরী: আমার জন্ম রংপুরে। পরে পড়াশোনার জন্য ঢাকায় এসেছি। ও লেভেল–এ লেভেল শেষ করে সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটি থেকে ইকোনমিকসে পড়াশোনা শেষ করেছি। মাস্টার্স করিনি। আসলে ব্যস্ততার কারণে করতে পারিনি। তবে পড়াশোনা বাদ দেব না। চেহারা আজ সুন্দর আছে, কাল না–ও থাকতে পারে। ক্যারিয়ারের কথাও একইভাবে বলা যায়। যে কারণে অনেক কিছু নিয়েই আমার ইচ্ছা।
তাহলে ক্যারিয়ার নিয়ে ‘প্ল্যান বি’ কী?
স্নিগ্ধা চৌধুরী: আমি সব সময় প্ল্যান বি করে রাখি। জীবনে কখন কী হয়, বলা যায় না। প্ল্যান বি করা থাকলে আফসোস থাকে না। তবে অভিনয়ের প্রতিই আমার টান বেশি। শাহরুখ খানের একটা সংলাপ সব সময়ই মনে রাখি, মন থেকে কোনো কিছু চাইলে সেটা অবশ্যই সে পাবে। আমি এখন পর্যন্ত মন থেকে যা চেয়েছি, তা–ই পেয়েছি।
কী কী পেয়েছেন?
স্নিগ্ধা চৌধুরী: প্রথমত, মডেলিং করতে চেয়েছি, সেটা পেয়েছি। এখন সিনেমা করছি। এ ছাড়া সুন্দর একটা জীবন চেয়েছি, চারপাশে ভালো মনের কিছু মানুষ চেয়েছিলাম, পেয়েছি। এই যে মিডিয়ায় টিকে থাকা অনেক কঠিন। আমি কিন্তু ফাইট করে যাচ্ছি। এটাও চেয়েছিলাম। এ কারণে আমার কাছে জীবনটা সুন্দর মনে হয়।
ক্যারিয়ারে টিকে থাকা নিয়ে দুশ্চিন্তা হয় না?
স্নিগ্ধা চৌধুরী: সেটা তো হয়ই। এখানে তো কাজের পরিসর কম। সিনেমার সংখ্যা কম। প্রতিযোগিতা বেশি। ক্যারিয়ার নিয়ে দুশ্চিন্তা হয়। কত দূর যাব, সামনে কী হবে। সাকসেস (সফলতা) আসবে কতটা। এগুলো ভাবায়। তবে আমি সব সময় আশাবাদী। পজিটিভ মানুষ। আগেই খুব বেশি চিন্তা করে অসুস্থ হতে চাই না। যা পেয়েছি সেটাও অনেক। আমার ক্যারিয়ার অল্প সময়ের। এর মধ্যে অনেক কিছু পেয়েছি। এটা অনেকে দীর্ঘদিন কাজ করেও পায় না। আমি নিজেকে সফল মনে করি। কেউ হয়তো একজীবনেও সফল হয় না।
শুটিং না থাকলে কী করেন?
স্নিগ্ধা চৌধুরী: শুটিং না থাকলে আমাকে বাসায় পাওয়া মুশকিল। তখন আমাকে জিমে খুঁজে পাওয়া যাবে। আমি নিয়মিত দীর্ঘ সময় জিম করি। পরে বাসায় পড়াশোনা করি। আবার নেটফ্লিক্সে সিনেমা দেখা হয়। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো হয়। কিছু আড্ডা হয়। কাজ নিয়ে কথা হয়।
সম্প্রতি কী সিনেমা ভালো লেগেছে?
স্নিগ্ধা চৌধুরী: গত সোমবার দেখলাম কঙ্কনা সেনের অ্যাকিউজড। নারীকেন্দ্রিক সিনেমাটি খুবই ভালো লেগেছে। একজন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠাকে ঘিরে গল্প। মানবিক গল্প। সিনেমায় নানা প্রশ্ন রয়েছে। কঙ্কনা আমার পছন্দের অভিনেত্রী। এই সিনেমা সবার দেখা উচিত। আরও সিনেমা দেখা হয়। তবে লাইট ইন মেট্রো আমার পছন্দের সেরা সিনেমা।
বর্তমান ব্যস্ততা কী নিয়ে?
স্নিগ্ধা চৌধুরী: এখন তো সিনেমার প্রচারণা নিয়েই ব্যস্ত। পাশাপাশি ঈদে বেশ কিছু ব্যান্ডের মডেল হিসেবে কাজ করছি। এ ছাড়া দুটি সিনেমা নিয়ে কথা হয়েছে। যেহেতু বড় পরিচালক ভালো গল্পের সিনেমায় কাজ করেছি। সে জন্য পরবর্তী গল্পগুলোও বড় পরিসরে ভালো গল্প চরিত্র হলেই করব। ঈদের পর সিনেমার কাজ ফাইনালি জানাতে পারব।
প্রকাশক: মোঃ শরিফুল ইসলাম। যোগাযোগ: মেডিকেল পূর্ব গেট, বুড়িরহাট রোড, রংপুর, বাংলাদেশ।
Copyright © 2026 RCTV ONLINE. All rights reserved.