ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ, বাণিজ্য ও শেয়ারবাজারে বড় প্রভাব পড়তে পারে।
হামলার পরপরই বিশ্বজুড়ে শেয়ারবাজারে পতন দেখা গেছে। এশিয়া, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান সূচকগুলো নিম্নমুখী হয়েছে। বিনিয়োগকারীরা আশঙ্কা করছেন, সংঘাত বাড়লে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা আরও গভীর হবে।
সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে তেলের বাজারে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবহন হয়। ইরানের পক্ষ থেকে এই পথ বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়ায় বাজারে উদ্বেগ বেড়েছে। এর ফলে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮২ ডলারের ওপরে উঠেছে, যা গত কয়েক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। বিশ্লেষকদের ধারণা, সরবরাহ ব্যাহত হলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনস সতর্ক করে বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বাড়লে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধাক্কা লাগবে। এতে মুদ্রাস্ফীতি বাড়বে এবং বিশ্ব অর্থনীতি মন্দার ঝুঁকিতে পড়তে পারে। বিশেষ করে জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত সীমিত থাকলে প্রভাব সাময়িক হতে পারে। তবে প্রণালি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে বা অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলে বৈশ্বিক মন্দা দেখা দিতে পারে। তেলের দাম যদি ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলারে পৌঁছে যায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্ব অর্থনীতি বড় ধাক্কা খাবে। তথ্যসূত্র : সিনহুয়া
প্রকাশক: মোঃ শরিফুল ইসলাম। যোগাযোগ: মেডিকেল পূর্ব গেট, বুড়িরহাট রোড, রংপুর, বাংলাদেশ।
Copyright © 2026 RCTV ONLINE. All rights reserved.