আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে অতিরিক্ত যাত্রীসেবা দিতে ট্রেনের রেকর্ড সংখ্যক কোচ মেরামত করা হচ্ছে নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায়। প্রয়োজনের মাত্র ২৩ শতাংশ জনবল, বাজেট স্বল্পতা, উপকরণ সরবরাহসহ নানা সমস্যা নিয়ে ১১২টি কোচ মেরামতের কাজ চলছে। এর মধ্যে রয়েছে ৬৬টি ব্রডগেজ ও ৪৬টি মিটারগেজ। নানা সংকটের মধ্যেও চরম কর্মব্যস্ততায় সময় কাটছে কারখানাটির শ্রমিক-কর্মচারীদের। তবে কোচ মেরামতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
মেরামতকৃত এসব কোচ ঈদের বিশেষ ট্রেনগুলোতে সংযুক্ত করা হবে। রেলবহরে বাড়তি কোচগুলো যুক্ত হলে ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রাপথের ভোগান্তি কিছুটা হলেও লাঘব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্রটি আরও জানায়, ১৮৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানাটি স্থাপন করে। কারখানার ২৯টি শপে রেলকোচ মেরামতের কাজ চলছে। দুই হাজার ৮৫৯ জনবলের বিপরীতে বর্তমানে ৭১০ জন কর্মরত রয়েছেন। ধীরে ধীরে জনবল কমে যাওয়ার পরও এ কারখানায় প্রতিদিন একটি কোচ ও একটি ওয়াগন মেরামত করা হয়। এছাড়া রেলওয়ের নানা ধরনের যন্ত্রাংশ তৈরি করা হয় এখানে। যদিও এ কারখানায় জনবল ও উপকরণ সংকটসহ নানা সমস্যা রয়েছে, তবুও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিকতায় সব সময় কাজে গতি মেলে।
প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে শুরু করে বিকেল ৪টা পর্যন্ত কাজ চলছে কারখানার ২৯টি বিভাগে। শ্রমিকরা কেউ রং আবার কেউ বডি প্রস্তত করণ আবার কেউবা সিট মেরামতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। জনবল সংকটের কারণে অতিরিক্ত সময়ও কাজ করতে হচ্ছে। মানুষের নিরাপদ ঈদযাত্রায় এই বাড়তি শ্রমেই আনন্দ খুঁজছেন তারা। এরইমধ্যে প্রস্তুত হওয়া ৭৪টি রেলকোচ চলে গেছে পাকশী ও লালমনিরহাট রেলওয়ে বিভাগের কাছে। আগামী ১৪ মার্চের মধ্যে বাকি রেলকোচগুলো হস্তান্তর করা হবে আশা কর্তৃপক্ষের।
দর্জি শাখার শিরিন সুলতানা বলেন, প্রতি ঈদে বাড়তি চাপ হয়। আমরা ছুটির দিন গুলোর মধ্যে কাজ করছি। আমরা আনন্দের সাথে কাজ করছি, আমাদের কষ্টের বিনিময়ে মানুষ শান্তিতে ঈদ করতে পারবে, ঘরে ফিরতে পারবে এটাই আমাদের সফলতা।
ক্যারেজ শপের ওয়েল্ডিং মিস্ত্রি সুবাহান আলী বলেন, ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে আমাদের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে গাড়ির যাবতীয় কাজ করছি। অচল গাড়িকে আমরা সচল করে থাকি।
পেইন্ট শপের শ্রমিক আউয়াল হোসেন বলেন, আমাদের শপের কাজ হচ্ছে কোচগুলো রং করে সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা। লোকসংখ্যা কমের কারণে খুব কষ্টের মধ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি, সেটা কর্তৃপক্ষের চাপে হোক কিংবা আমাদের দায়িত্ব থেকে হোক । রেল যেহেতেু সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। আমরা সেবার জন্য সবসময় বেশি করে শ্রম দেই। যাতে যাত্রীদের কোনো ভোগান্তি না হয়।
কারখানার বিভিন্ন শপের কর্মচারীরা বলেন, ঈদ আসলে আমাদের কাজে বেস্ততা বাড়ে। এখন কাজের জন্য দম ফেলার ফুরসত নেই। ঈদ ঘনিয়ে আসছে, তাই কাজের চাপও বাড়ছে। ক্যারেজ শপে মেরামত হয়ে আসা কোচগুলো আমরা রঙ করছি। কেউ ওয়েলডিংয়ের কাজ করছেন।
এ বিষয়ে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) শাহ সুফি নুর মোহাম্মদ বলেন, কারখানায় ১১২টি কোচ মেরামত করে অপারেটিং বিভাগকে হস্তান্তর করা হবে । এরই মধ্যে ৭৪টি কোচ রেলওয়ে বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে । যা শ্রমিক-কর্মচারীদের কঠোর পরিশ্রমের কারণে সম্ভব হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ঈদের সময় যাতে যাত্রীরা নিরাপদে চলাচল করতে পারে সেজন্য আমাদের শ্রমিকরা উৎফুল্ল হয়ে কাজ করছে। কারখানায় নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে, খুব শিগগিরই জনবল সংকটের সমাধান হবে।
প্রকাশক: মোঃ শরিফুল ইসলাম। যোগাযোগ: মেডিকেল পূর্ব গেট, বুড়িরহাট রোড, রংপুর, বাংলাদেশ।
Copyright © 2026 RCTV ONLINE. All rights reserved.