ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেছেন, আমি ৯৫ শতাংশ সফল হয়েছি। আমার মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ডে অনেক অর্গান আছে, অনুদান শাখা আছে। অনুদান শাখার মাধ্যমে দেশের মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা, কবরস্থান এবং হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ সব ধর্মীয় জাতিগোষ্ঠীকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
নিজের সফলতার খতিয়ান তুলে ধরে ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, প্রশাসনিক কিছু জটিলতা ও জনবল সংকটের কারণে আমি শতভাগ সফল হতে পারিনি। প্রশাসনিক কাজ একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। তবে আমরা ইতোমধ্যে শূন্যপদ পূরণে ছয়জন কর্মকর্তা নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দিয়েছি এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আর কিছুদিন সময় পেলে ওয়াকফ প্রশাসনকে একটি শৃঙ্খলার মধ্যে এবং জবাবদিহির আওতায় নিয়ে আসতে পারতাম। ওয়াকফ সংক্রান্ত কাজগুলো বেশ জটিল, বিশেষ করে ভূমি সংক্রান্ত মামলার কারণে হাইকোর্টে বছরের পর বছর শুনানি ঝুলে থাকে।
কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদের সংস্কার প্রসঙ্গে ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, আমি দুইবার পাগলা মসজিদ পরিদর্শন করেছি। জেলা প্রশাসককে সেখানকার মোতাওয়াল্লির দায়িত্ব দেওয়ায় সেখানে শৃঙ্খলা ফিরেছে। বর্তমানে ছয়টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ১০৭ কোটি টাকা জমা আছে। আমরা সেখানে একটি আধুনিক কমপ্লেক্স তৈরির পরিকল্পনা করেছি। প্রথমে রুয়েটের সঙ্গে চুক্তি হলেও তারা কাজ করতে পারেনি, পরে বুয়েটের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি টিম পাঠানো হয়েছে।
বায়তুল মোকাররমের খতিব কর্তৃক গণভোটে ‘না’ ভোট দেওয়ার আহ্বানে মানুষ উৎসাহিত হচ্ছে—এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, বায়তুল মোকাররমের খতিব, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ডিজি, বিভিন্ন ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি ও কর্মকর্তারা আমার সুপারিশে এবং প্রধান উপদেষ্টার অনুমোদনে রাষ্ট্রপ্রধান কর্তৃক নিযুক্ত। আমি মনে করি, যারা রাষ্ট্র কর্তৃক নিয়োজিত কর্মকর্তা, তাদের প্রত্যেককে অতিশয় দায়িত্বশীল হতে হবে এবং সতর্কতার সঙ্গে কথা বলতে হবে। এমন কোনো মন্তব্য করা উচিত নয় যা জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করে।
তিনি আরও বলেন, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান। এর খতিব ও ইমামরা সর্বজনশ্রদ্ধেয়। বর্তমান খতিব একজন বিজ্ঞ আলেম ও হাদিস বিশেষজ্ঞ। পুরো জাতি তাকে শ্রদ্ধা করে। তবে খতিবের কোনো বক্তব্য যদি কোনো রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে যায় বা রাষ্ট্রের অবস্থানের বিপরীতে যায়, তবে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা চাই বায়তুল মোকাররমের খতিবের পদটি বিতর্কমুক্ত থাকুক। খতিবের কোনো বক্তব্যে সরকার বিব্রত হোক—এমন পরিস্থিতি আমাদের কাম্য নয়।
তিনি সবাইকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিযুক্ত প্রত্যেকেরই দায়িত্বশীল আচরণ করা প্রয়োজন। সরকার বিব্রত হয় এমন মন্তব্য থেকে আমাদের সবার দূরে থাকা উচিত।
তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রধান উপদেষ্টা কর্তৃক নিয়োজিত আমাদের প্রত্যেকের দায়িত্বশীল এবং সতর্কতার সঙ্গে কথা বলা প্রয়োজন। সরকার বিব্রত হয় এরকম কোনো মন্তব্য থেকে আমাদের দূরে থাকা উচিত।
প্রকাশক: মোঃ শরিফুল ইসলাম। যোগাযোগ: মেডিকেল পূর্ব গেট, বুড়িরহাট রোড, রংপুর, বাংলাদেশ।
Copyright © 2026 RCTV ONLINE. All rights reserved.