
ঠাকুরগাঁও সুগার মিলের চিমনি থেকে উড়ে আসা কালো ছাইয়ে চারপাশ ঢেকে যাচ্ছে। বাড়িঘর, গাছপালা, পুকুর, নদী, খাল-বিল—সবখানেই জমছে ছাইয়ের স্তূপ। দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই সমস্যায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বারবার জানানোর পরও মিল কর্তৃপক্ষ কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না। তবে কর্তৃপক্ষ বলছে, মিলটি পুরনো হওয়ায় এ সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে এবং সমাধানে তারা পদক্ষেপ নিচ্ছেন।
সুগার মিল সূত্রে জানা যায়, জেলায় একমাত্র প্রধান ভারী শিল্পপ্রতিষ্ঠান এই মিলটির নির্মাণকাজ শুরু হয় ১৯৫৬ সালে এবং শেষ হয় ১৯৫৮ সালে। ১৯৭১ সালের যুদ্ধপরবর্তী সময়ে লুটপাটে মিলের চিমনির ঢাকনাসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর থেকেই প্রতি মৌসুমে মিল চালু হলেই চিমনি দিয়ে ছাই বাইরে ছড়িয়ে পড়ছে, ভোগান্তিতে পড়ছেন আশপাশের বাসিন্দা ও পথচারীরা।
প্রতিবছর ডিসেম্বর মাসে মিলটি চালু হয়ে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ দিন আখ মাড়াই কার্যক্রম পরিচালনা করে। চলতি মৌসুমে গত ১৯ ডিসেম্বর ৬৮তম আখ মাড়াই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। মিল চালুর পর থেকেই প্রতিদিন ছাই উড়ে আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে।
এলাকাবাসীরা বলেন দীর্ঘদিন ধরে উড়তে থাকা ছাইয়ে ঠাকুরগাঁও রোড বাজারসহ আশপাশের এলাকা কালো স্তূপে পরিণত হয়েছে। বাসাবাড়ির ছাদ, বারান্দা ও ঘরের আনাচেকানাচে জমছে ছাই।
ঠাকুরগাঁও রোড এলাকার বাসিন্দা বলেন, বিষাক্ত ছাই বাতাসের সঙ্গে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ছে। এতে একদিকে দুর্ভোগ বাড়ছে, অন্যদিকে সমাধানের পথও অজানা রয়ে গেছে।
পথচারী হক জানান, বাইক চালানোর সময় ছাই চোখে পড়ে তীব্র জ্বালাপোড়ার সৃষ্টি হয়। বিষয়টি দ্রুত সমাধান হওয়া জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
শহরের মুন্সিরহাট এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, ছাইয়ের কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় স্থবিরতা নেমে এসেছে। অনেকেই চোখের সমস্যায় ভুগছেন, দূষিত হচ্ছে সুপেয় পানিও। দ্রুত ছাই নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তারা।
ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. সাজ্জাদ হায়দার শাহীন বলেন, ধুলো, ময়লা ও ছাই স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এসবের কারণে চোখের মারাত্মক ক্ষতি এমনকি অন্ধত্বের আশঙ্কাও থাকতে পারে। তাই আধুনিক প্রযুক্তিতে কলকারখানা পরিচালনার ওপর জোর দেন তিনি।
এ বিষয়ে সুগার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাহজাহান কবির বলেন, মিলটি অনেক পুরনো হওয়ায় চিমনি থেকে ছাই ছড়িয়ে পড়ছে। আধুনিকায়ন এখন সময়ের দাবি। ছাই নিয়ন্ত্রণে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
প্রকাশক: মোঃ শরিফুল ইসলাম। যোগাযোগ: মেডিকেল পূর্ব গেট, বুড়িরহাট রোড, রংপুর, বাংলাদেশ।
Copyright © 2026 RCTV ONLINE. All rights reserved.