জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ১০ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো পরাজয়ের গ্লানি ভুলতে পারছেন না রংপুর-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী ও তার কর্মী-সমর্থকরা। রমজান শুরুর আগে টানা চারদিন বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে হারাগাছ, পীরগাছা ও কাউনিয়া বিএনপি। এবার নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য (এমপি) ও এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেনের হারাগাছ সফর ঘিরে শুরুতে হরতালের ঘোষণা করলেও পরে তা থেকে সরে এসে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবে হারাগাছ পৌর বিএনপি।
অন্যদিকে সংসদ সদস্য আখতার হোসেন এক ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, আমার হারাগাছে আসা নিয়ে যদি কিছু ঘটে তার দায় ভরসা এবং বিএনপির হাইকমান্ডকে নিতে হবে। আমরা হারাগাছের নিপীড়িত শ্রমিকদের পক্ষে কাজ করে যাব ইনশাআল্লাহ।
এদিকে গতকাল শনিবার রাত ৮টার দিকে হারাগাছ পৌর শহরের হকবাজার এলাকায় ‘রংপুর-৪ এর সাধারণ ভোটারের’ ব্যানারে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়।
মিছিল শেষে প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন পৌর বিএনপির সভাপতি মোনায়েম হোসেন ফারুক। এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সম্পাদক নুরুল আমীন দাজু, সাংগঠনিক সম্পাদক হারুনুর রশিদ সমাপ্তি।
বক্তারা বলেন, অবৈধভাবে জনগণের রায় ছিনতাই করে এমপি হয়ে আখতার হোসেন হারাগাছ সফরের কর্মসূচি দিয়েছেন। হারাগাছের মানুষ যখন ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে তখন তার এই সফর বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাঁয়তারা। আখতার হোসেনের এই সফরের প্রতিবাদে জনসাধারণকে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানান তারা।
এর আগে শনিবার বিকেলে মাইকিং করে হারাগাছ পৌর বিএনপির পক্ষ থেকে সকাল ১১ থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত হরতাল পালনের আহ্বান জানানো হয়। পরে রমজানে জনভোগান্তির কথা বিবেচনা করে হরতাল প্রত্যাহার করে বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দেয় হারাগাছ পৌর বিএনপি।
এদিকে রোববার দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছ পৌর এলাকার লোকজনের সঙ্গে কুশলবিনিময়, শহীদ লাভলুর পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও হারাগাছ থানা পরিদর্শনের কথা রয়েছে রংপুর-৪ (পীরগাছা-কাউনিয়া) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব আখতার হোসেনের।
এ বিষয়ে হারাগাছ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অশোক চৌহান বলেন, রোববার হারাগাছ পৌর শহরে সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের সফর ঘিরে যাতে কেউ আইনশৃঙ্খলার অবনতি করতে না পারে সেজন্য পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর-৪ (পীরগাছা ও কাউনিয়া) আসনে এনসিপির প্রার্থী আখতার হোসেন শাপলা প্রতীকে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৯৬৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এমদাদুল হক ভরসা পেয়েছেন ১ লাখ ৪০ হাজার ৫৬৪ ভোট।
নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে এই ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে রিটার্নিং কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ দেন ওই আসনের বিএনপির প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসা। ভোট পুনর্গণনার দাবি জানান তিনি। এছাড়া নির্বাচনের পর দিন থেকে টানা চারদিন হারাগাছ, পীরগাছা ও কাউনিয়ায় বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন তার সমর্থকরা। সবশেষ জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও করে ভোট পুনর্গননা না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন এমদাদুল হক ভরসা।
এদিকে আজ ভোররাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আখতার হোসেন একটি দীর্ঘ স্ট্যাটাস দেন। সেখানে তিনি নির্বাচন পরবর্তী হারাগাছে এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, বাড়িঘর ভাঙচুর এবং ভয়ভীতির তুলে ধরেন। এই পোস্টে তিনি নির্বাচনের দিনে বিভিন্ন কেন্দ্রে তার পক্ষে থাকা শাপলা কলির কর্মী-সমর্থক এবং পোলিং এজেন্টদের ওপর নানা অন্যায় করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন।
স্ট্যাটাসের শুরুতে আখতার হোসেন লিখেছেন, সরকার গঠন করেছে বিএনপি আর নতুন সরকারের আমলে প্রথম হরতাল হচ্ছে বিরোধীদলের সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে। রংপুর-৪ এর হারাগাছে আজ আমার বিরুদ্ধে হরতাল ডেকেছে এমদাদুল ভরসার পৌর বিএনপি। এনারা আসলে বিএনপি করেন না, ভরসা করেন। কিন্তু বিএনপির সরকার গঠনের আভাস পাওয়ার পর থেকে বাড়িঘর ভাঙচুর, লোক পেটানো, রক্তাক্ত করা, লুটপাট, ভয়ভীতি দেখানো, আন্দোলনের নামে সহিংসতা সব করছে বিএনপির নামে।
ওই স্ট্যাটাসের শেষে তিনি লিখেছেন, আমার হারাগাছে আসা নিয়ে যদি কিছু ঘটে তার দায় ভরসা এবং বিএনপির হাইকমান্ডকে নিতে হবে। আমরা হারাগাছের নিপীড়িত শ্রমিকদের পক্ষে কাজ করে যাব ইনশাআল্লাহ।
এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে কাউনিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও রংপুর-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তিনি ফোন কল রিসিভ না করায় তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রকাশক: মোঃ শরিফুল ইসলাম। যোগাযোগ: মেডিকেল পূর্ব গেট, বুড়িরহাট রোড, রংপুর, বাংলাদেশ।
Copyright © 2026 RCTV ONLINE. All rights reserved.