গত বছরের জুলাইয়ে পিঠের ইনজুরিতে পড়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার ওয়ানডে ও টেস্ট অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। এরপর মাঝে কেবল অ্যাশেজ সিরিজের একটি টেস্ট খেলেছেন। ৬ উইকেট শিকারের পর তাকে বড় ঝুঁকি এড়াতে বিশ্রামে পাঠিয়ে দেয় অস্ট্রেলিয়া। তাদের প্রত্যাশা ছিল পুরো ফিট হয়ে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলবেন কামিন্স। তবে আইসিসির এই মেগা ইভেন্ট শুরুর সপ্তাহখানেক আগে তিনি ছিটকে গেছেন।
কামিন্সের বদলে অস্ট্রেলিয়ার ১৫ সদস্যের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে ডাক পেয়েছেন ৩১ বছর বয়সী পেসার বেন দারউইশ। এ ছাড়া অফফর্মে থাকা ম্যাথু শর্টকে বাদ দিয়ে তার জায়গায় নেওয়া হয়েছে ম্যাট রেনশকে। তবে চূড়ান্ত স্কোয়াডে এবারও সুযোগ মেলেনি বিগ ব্যাশে দুর্দান্ত ফর্ম দেখানো অভিজ্ঞ তারকা স্টিভেন স্মিথের। এ ছাড়া ইনজুরি থেকে ফেরা জশ হ্যাজলউড, টিম ডেভিড এবং নাথান এলিসকে বিশ্বকাপের জন্য পূর্ণ ফিট হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে কামিন্সকে শুরুতে অস্ট্রেলিয়ার প্রাথমিক ১৫ সদস্যের দলে রাখা হয়েছিল, উদ্দেশ্য ছিল তার পিঠের চোট থেকে সেরে ওঠার প্রক্রিয়ার মধ্যে তাকে টুর্নামেন্টের শুরুর দিকের ম্যাচগুলো পর্যন্ত দলে বহাল রাখা। তবে তিনি মধ্য-ডিসেম্বরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অ্যাডিলেড টেস্টের পর থেকে আর কোনো ম্যাচ খেলেননি। সেটাই ছিল গত জুলাইয়ের পর তার একমাত্র ম্যাচ, যখন প্রথমবারের মতো তার নিচের পিঠে লাম্বার স্ট্রেস ইনজুরির উপসর্গ দেখা দেয়। জানুয়ারিতে করা সর্বশেষ স্ক্যানের ফল ইতিবাচক হলেও ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া জানিয়েছে, কামিন্সের “পুরোপুরি সুস্থ হতে আরও সময় প্রয়োজন।
অজি নির্বাচক টনি ডোডেমেইড বলেন, ‘প্যাটের পিঠের চোট থেকে সেরে উঠতে আরও সময় লাগায় বেন প্রস্তুত বিকল্প হিসেবে দলে এসেছে। সে বাঁ-হাতি পেস বোলিংয়ের পাশাপাশি ফিল্ডিং ও টেলএন্ডারে কার্যকর ব্যাটিংয়েরও সক্ষমতা রাখে। গতির সঙ্গে সুইংয়ের মিশ্রণ এবং বুদ্ধিদীপ্ত ভ্যারিয়েশনের দক্ষতা তাকে আমাদের প্রত্যাশিত কন্ডিশন এবং দলের সামগ্রিক কাঠামোর সঙ্গে মানানসই করে তুলবে। ম্যাটও (রেনশ) সাম্প্রতিক সময়ে সব ফরম্যাটেই মুগ্ধ করেছে। অস্ট্রেলিয়া, কুইন্সল্যান্ড বুলস ও ব্রিসবেন হিটের হয়ে সাদা বলের ক্রিকেটে বিভিন্ন ভূমিকায় নিজেকে প্রমাণ করেছে। টপ অর্ডার স্থিতিশীল এবং শ্রীলঙ্কায় গ্রুপপর্বে স্পিন সহায়ক উইকেট প্রত্যাশিত হওয়ায় ম্যাট মাঝের ওভারের ব্যাটিংয়ে বাড়তি সহায়তা দেবে। বাঁ-হাতি ব্যাটার হিসেবেও ভিন্নতা দেবে মিডল অর্ডারে।’
অধিনায়ক মিচেল মার্শের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার ওপেনিং জুটিতে আছেন সহ-অধিনায়ক ট্রাভিস হেড। পাশাপাশি ক্যামেরন গ্রিন ও গ্লেন ম্যাক্সওয়েল আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টির ওপেনিংয়ে সফল হয়েছেন। ২০১৬ সালে পাল্লেকেলেতে ওপেনিংয়ে নেমে ম্যাক্সওয়েল একটি সেঞ্চুরিও করেছিলেন। একই ভেন্যুতে গ্রুপপর্বে অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলঙ্কা মুখোমুখি হবে। গত বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে হেডের অনুপস্থিতিতে পাওয়ারপ্লেতে স্পিন বোলিংয়ের পাশাপাশি ওপেনিংয়ে ব্যাটিং–ও করেছিলেন ম্যাক্সওয়েল। এ ছাড়া তাকে দলে নামমাত্র রিজার্ভ উইকেটরক্ষক হিসেবেও রাখা হয়েছে, যদিও তিনি কখনও পেশাদার ম্যাচে উইকেটকিপিং করেননি।
অস্ট্রেলিয়ার ১৫ সদস্যের স্কোয়াডে জশ ইংলিসই একমাত্র বিশেষজ্ঞ উইকেটরক্ষক। তাদের কোচিং স্টাফের অংশ হিসেবে বিশ্বকাপে থাকবেন সাবেক উইকেটরক্ষক-ব্যাটার ম্যাথু ওয়েড। ২০২৪ বিশ্বকাপের পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়া ওয়েড এখনও হোবার্ট হারিকেন্সের হয়ে বিগ ব্যাশে খেলছেন এবং জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য নিজের খেলোয়াড়ি সরঞ্জাম সঙ্গে রাখবেন– এমন গুঞ্জনও রয়েছে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার স্কোয়াড
মিচেল মার্শ (অধিনায়ক), জাভিয়ের বার্টলেট, কুপার কনলি, টিম ডেভিড, বেন ডারউইশ, ক্যামেরন গ্রিন, নাথান এলিস, জশ হ্যাজলউড, ট্রাভিস হেড, জশ ইংলিস, ম্যাট কুনেম্যান, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, ম্যাট রেনশ, মার্কাস স্টয়নিস ও অ্যাডাম জাম্পা
প্রকাশক: মোঃ শরিফুল ইসলাম। যোগাযোগ: মেডিকেল পূর্ব গেট, বুড়িরহাট রোড, রংপুর, বাংলাদেশ।
Copyright © 2026 RCTV ONLINE. All rights reserved.