ভারতের পাহাড়ি রাজ্য হিমাচল প্রদেশে ভারি তুষারপাতের ফলে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) পর্যন্ত তিনটি জাতীয় মহাসড়কসহ রাজ্যের অন্তত ৮৩৫টি রাস্তা যানবাহন চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, একটি নতুন 'পশ্চিমী ঝঞ্ঝা'র প্রভাবে সোমবার (২৬ জানুয়ারি) থেকে রাজ্যের উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে আবারও ভারি তুষারপাত শুরু হতে পারে।
এই পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কায় আবহাওয়া অফিস হিমাচলের বিভিন্ন এলাকায় সতর্কতা জারি করেছে।
রাজ্য জরুরি অপারেশন সেন্টারের তথ্য, উপজাতীয় জেলা লাহুল ও স্পিতিতে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে। সেখানে লেহ-মানালি এবং কাজা-গ্রাম্পু জাতীয় মহাসড়কসহ প্রায় ২৮২টি রাস্তা অবরুদ্ধ হয়ে আছে। এছাড়া রাজধানী শিমলায় ২৩৪টি, মান্ডিতে ১১০টি এবং চাম্বায় ৭৮টি রাস্তা বন্ধ রয়েছে।
কুল্লু জেলাতেও সাইঞ্জ-লুহরি-আউট জাতীয় মহাসড়কসহ ৬৫টি রাস্তা তুষারে ঢাকা পড়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সিরমৌর, কিন্নর এবং কাংড়া জেলাতেও একই ধরনের সংকটে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
তুষারপাতের কারণে কেবল যাতায়াত নয়, বিদ্যুৎ ব্যবস্থাও চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। রাজ্যজুড়ে প্রায় ১,৯৪২টি ট্রান্সফরমার অকেজো হয়ে যাওয়ায় হাজার হাজার পরিবার বর্তমানে বিদ্যুৎহীন অবস্থায় অন্ধকারে দিন কাটাচ্ছে। বিশেষ করে শিমলা জেলায় সর্বোচ্চ ৭৮৯টি এবং সিরমৌরে ৩৫৪টি ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে আছে।
হিমাচলের লাহুল ও স্পিতি জেলার তাবো গ্রামে তাপমাত্রা হিমাঙ্কের ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস নিচে নেমে যাওয়ায় সেখানে হাড়কাঁপানো শৈত্যপ্রবাহ বইছে। এছাড়া মানালি, উনা, হামিরপুর এবং বিলাসপুরেও তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) পর্যন্ত পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আবহাওয়া দপ্তর কুল্লু, কিন্নর, চাম্বা এবং লাহুল ও স্পিতি জেলার জন্য 'অরেঞ্জ অ্যালার্ট' জারি করেছে, যেখানে ভারী তুষারপাত ও বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের বাকি জেলাগুলোর জন্য 'ইয়েলো অ্যালার্ট' জারি করা হয়েছে, যেখানে বজ্রপাত ও ঝোড়ো হাওয়াসহ তীব্র শীতের সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।
পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের এই সময়ে পাহাড়ি এলাকায় চলাচলে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন।
প্রকাশক: মোঃ শরিফুল ইসলাম। যোগাযোগ: মেডিকেল পূর্ব গেট, বুড়িরহাট রোড, রংপুর, বাংলাদেশ।
Copyright © 2026 RCTV ONLINE. All rights reserved.